banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক সংসদ সদস্যের ছবি অবমাননা নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ছবিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড.রহমত আলীর। যিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর-৩ আসনের ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। উনার মেয়ে রুমানা আলী টুশী বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। 

ধারনা করা হচ্ছে, কিছু অতি উৎসাহী কলেজের শিক্ষক- কর্মচারীদের যোগসাজশে কেউ ছবিটি বাথরুমের ওয়াশিং টপের নিচে ফেলে রেখেছে।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে একাধিক ব্যক্তি ও নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত আইডি থেকে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্টাটাস দিতে দেখা যায়।
আনোয়ার হোসেন নামক আইডিতে লিখা হয়েছে - "নির্লজ্জতারও সীমা থাকা উচিত,ছিঃ-শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজে বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.রহমত আলী মহোদয়ের ছবি -টিচার্স রুমে নাই!ছবিটি শুধুই নামিয়ে ফেলা হয়নি তা ওয়াস রুমের বেসিনের নীচে রেখে দেয়া হয়েছে! 

এমডি জুনায়েদ জমসাদ নামক আইডিতে লিখা আছে- "এটা আওয়ামী লীগের লজ্জা, এটা গাজীপুর বাসীর লজ্জা, এটা বাংলাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য লজ্জা"। 

শেখ শিমুল হাসান লিখেন- "বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সাবেক সফল মন্ত্রী ও গাজীপুর-৩ আসনের ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড. রহমত আলী সাহেবের ছবি আজকে যাঁরা নামিয়ে এমন জায়গায় ফেলে রেখেছেন তারা আর যাই হোন কোন সভ্য মানুষ না।যাঁরা এমন ঘূণ্য কাজ করেছে তাঁদের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি"। 

মহসিন কবির নামক আইডিতে রয়েছে-"এতটা হীন মানষিকতার পরিচয় দেওয়া কি খুব জরুরী ছিল !! আলহাজ্ব এড. রহমত আলী শুধু গাজীপুর নয় সারা বাংলাদেশে এক জনই।রহমত আলীরা বছর বছর জন্ম গ্রহন করেন না । পরম করুনাময় যুগে যুগে বা শতাব্দীতে এক একজন মহানব্যক্তির জন্মদেয় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণের জন্য। আলহাজ্ব এড.রহমত আলী এমনই একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ।যে মানুষটা তাঁর জীবন যৌবনের সমস্তটা ব্যয় করেছেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।আলহাজ্ব এড.রহমত আলী সাহেব যিনি ৩০ বছরের এম.পি,সাবেক সফল মন্ত্রী যার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় শ্রীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজ সরকারি করা  হয়েছে এবং কলেজের বহু উন্নয়ন হয়েছে , শুধু তাই নয় শ্রীপুরে এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে তাঁর হাতের ছোঁয়া নাই, যিনি শ্রীপুর কলেজের মতো শতশত সামাজিক , ধর্মীয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী পালন করেছেন । আজ যিনি বয়সের ভারে নূয্য ,যার জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই , যিনি আর কোন দিন কারো প্রতিপক্ষ হতেও আসবেন না । উক্ত কলেজ প্রশাসন কলেজ অফিস থেকে উনার ছবিটি শুধু অপসারণই করেননি বাথরুমের কমডের নীচের রেখে দিয়েছেন(নিচের ছবিটি জনাব আনোয়ার হোসেন এর পোস্ট থেকে সংগৃহীত) কাকে খুশী করার জন্য কলেজ প্রশাসন এ হীন কাজটি করেছেন জানিনা তবে যাকে বা যাদেরকে খুশী করার জন্য এ কাজটি করা হলো এমন দিনও হয়তো আসতে পারে তাকে বা তাদেরকে এর চেয়ে বেশী অপমান করতে ঐ সকল নীচুমনা মানুষদের একটুও সময় লাগবেনা।কাউকে ছোট করে বড় হওয়া যায় না ।কারো কাছে বিচার চাইনা, তবে এ কলেজের একজন সাবেক ছাত্র হিসাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি"। 

সোহরাব হোসেন রাব্বির আইডিতে লিখা হয়েছে -"শ্রীপুর মা মাটি মানুষের সন্তান,গাজীপুরের সিংহ পুরুষ,গাজীপুর ৩ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য।যিনি দীর্ঘ৭৫ বছরের জীবনে-৪৫ কিংবা তার চেয়েও সময় ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে এই শ্রীপুরের মানুষকে নিয়ে সততার সাথে  রাজনীতি করে আসছে। যার কারণে শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আজ প্রতিষ্ঠিত।আজ তার ছবি তারই নামে কলেজটির ওয়াশ রুমে কেন পরে থাকবে?এটা আমাদের প্রশ্ন..এটা শ্রীপুরের ইতিহাসে নেককারজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই"।

মোঃ শহিদুল ইসলাম শাহিন লিখেছেন-"গাজীপুর-৩ আসন থেকে বার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড.রহমত আলী সাহেব আজ অসুস্থ, আজ যারা ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আপনারা মনে রাখবেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়,আজ যারা রহমত আলী সাহেবের ছবি নামিয়ে ওয়াশ রুমে রেখেছেন কাল কিন্তু আপনাদের অবস্থান ও এমন হবে।মাননীয় এমপি মহোদয় আপনি এই বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে যারা এই নিকৃষ্ট কাজটি করেছে তাদের কে বিচারের আওতায় এনে বিচার করুন। মানীলোকের মান অখুন্ন রাখবেন আমরা আশাবাদী"।

জুয়েল শেখ লিখেছেন -
"বর্তমান এমপি সাহেবের ছবি অফিসের দেয়ালে আর সাবেক এমপি সাহেবের ছবি বাথরুমে বেসিনের নিচে, আমি এর প্রতিবাদ ও ধীক্কার জানাই। গাজীপুর৩ আসনের সাংসদ, শ্রদ্ধেয় ইকবাল হুসেন সবুজ, আপনার আদর্শিক বানী মানুষকে আকৃষ্ট করে বলেই আজ আপনি জাতিয় সংসদের সদস্য, আপনি আপনার বক্তৃতায় সাবেক সাংসদ গাজীপুর ৩ আসনের উন্নয়নের রুপকার আলহাজ্ব এড. রহমত আলী এমপি স্যারের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেন তাহা আমাদেরকে আলোড়িত করে, আপনার এই মহানূভবতা যদি আন্তরিক হয় তাহলে সাবেক এমপি সর্বজন  শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব রহমত আলী স্যারের সাথে যে বেয়াদবি করা হয়েছে তা দেখবেন।

শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে বর্তমান দায়িত্বে দুইজন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। তবে কিছুদিন আগে ছবিটি নামিয়ে পূনরায় টানানো হয়েছিল। সেসময় পিয়ন কোথায় রেখে পরিস্কার করেছিলেন তা খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো। আগের অধ্যক্ষ ক্ষমতা দেখিয়ে অনেক দুর্নীতি করে গেছে। সেগুলো দূর করে বর্তমানে সঠিকভাবে কলেজ পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পৌর আ'লীগের সভাপতি ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যুৎসাহী সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম মন্ডল বুলবুল জানান, এটা খুবই দুঃখজনক। ঘটনা শুনে কলেজে গিয়ে ছবি হস্তান্তর করার অনুরোধ করছি। প্রবিণ আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যকে এভাবে অবমাননা আ'লীগের কর্মী হিসেবে তা মেনে নিতে পারিনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আপনার মাধ্যমে আমি জেনেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর