banglanewspaper

দশ বছর পর করাচিতে ফিরল ক্রিকেট। সোমবার করাচির দর্শকদের সেই উৎসবের দিনটা প্রথমে সেঞ্চুরিতে রাঙালেন বাবর আজম। পরে বল হাতে আগুন ঝরালেন উসমান শিনওয়ারি। নিলেন ৫ উইকেট। প্রতিপক্ষকে ৩০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়ে সরফরাজ আহমেদের দল ম্যাচটা জিতে নিল ৬৭ রানের বড় ব্যবধানে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এররকম নির্বাসিত ছিল পাকিস্তান থেকে। গেল ক’বছর ধরে নিজ দেশে ক্রিকেট ফেরাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। অন্যরা মুখ ফিরিয়ে থাকলেও দশ বছর আগে যে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলা হয়েছিল, সেই দলটাই এখন পাকিস্তানে।

যদিও প্রথমসারির ১০ জন ক্রিকেটার শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গী হয়নি। যার মধ্যে আছেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেও। এই সফরে শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লাহিরু থিরিমান্নে। বৃষ্টির কারণে প্রথম ওয়ানডেটা পণ্ড হয়। পিছিয়ে দেওয়া হয় দ্বিতীয় ওয়ানডে।

বৃষ্টি বাধার পর অবশেষে এদিন করাচি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মাঠে গড়ায় ক্রিকেট। যে ম্যাচে টসে জয় লাভ করে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে বাবর আজমের সেঞ্চুরি ও ফখর জামানের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩০৫ রান করে স্বাগতিকেরা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় শ্রীলঙ্কা। যার তিন উইকেটই তুলে নেন উসমান শিনওয়ারি।

সেখান থেকে সিহান জয়াসুরিয়া ও দানুশ শানাকা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ১৭৭ রানের জুটি। যা দেশের পক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ। এই জুটি একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কার দর্শকদের জয়ের স্বপ্নও দেখাচ্ছিল।

কিন্তু ৪১ ও ৪২তম ওভারে একে একে ফিরে যান জয়াসুরিয়া ও শানাকা। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে শিনওয়ারির চতুর্থ শিকার হন জয়াসুরিয়া। ১০৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৯৬ রান করেন জয়াসুরিয়া। আর শানাকাকে ফেরান শাবাদ খান। ৮০ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করেন তিনি।

এরপর আট নম্বরে নেমে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২৩ বলে ৩০ রান করেন। তবে সেটি জয়ের জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩.১ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন হাসারাঙ্গা। তার আগে ইসুরু উদানাকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূরণ করেন শিনওয়ারির। এ ছাড়া ২ উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৭৩ রান। ইমাম ৩১ রান করে ফিরলেও ফখর তুলে নেন ফিফটি। ইমামের পর ফখরকে ফেরান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ৬৫ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান করেন ফখর।

এরপর বাবর ও হারিস সোহেলের সেঞ্চুরি জুটি। ২৫ ওভার শেষে স্বাগতিকদের রান ছিল ২ উইকেটে ১২৩। এই দুজন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১১১ রান। ৪০তম ওভারে দলীয় ২১৫ রানে ফেরেন হারিস। ব্যক্তিগত ৪০ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন তিনি।

তবে বাবর তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। ৯৭ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন ১১৫ রানে। ১০৫ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান পাকিস্তানের এই রান মেশিন।

২০১৫ সালের পর ওয়ানডে খেলতে নামা ইফতেখার আহমেদ শেষ দিকে ঝড় তোলেন। তার ২০ বলে ৩২ রানের ইনিংসেই তিন শ পেরোয় পাকিস্তান। ৮ বলে ১২ রান করে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম।

ইমাদের চেয়েও অবশ্য এগিয়ে থাকবেন ২ রান করা ওয়াহাব রিয়াজ। শেষ বলে আউট হন ওয়াহাব। তবে সপ্তম উইকেটে তাকে নিয়েই ইফতেখার যোগ করেন ২৭ রান। মাঝে ব্যর্থ ছিলেন অধিনায়ক সরফরাজ (৮)। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন উসমান শিনওয়ারি। তিন ম্যাচ সিরিজে শেষ ওয়ানডে একই মাঠে বুধবার। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। সবগুলো ম্যাচই হবে লাহোরে।

ট্যাগ: bdnewshour24 পাকিস্তান