banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট আসনসংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে আসছে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪ সালের দিকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে বার কাউন্সিল। আইন বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ফলাফল খুবই নিম্নমানের বলে অভিযোগ করে বার কাউন্সিল। এ সময় এ বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে ইউজিসি। আইন বিষয়ের প্রতি অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এবং শিক্ষার মান ধরে রাখতে ইউজিসি আইন বিভাগের প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না করানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিঠি দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন বিভাগের প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না বলে উচ্চ আদালত রায় দেয়। তারপরও কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ওইসব শিক্ষার্থী বার কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন এবং ফরম পূরণ করতে পারছেন না। প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলন করে আসছেন বলেও জানা গেছে। এরপর গতকাল সোমবার উচ্চ আদালতে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটির একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বার কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের কী হবে?

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, আশা ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টার ন্যাশলান ইউনিভার্সিটিসহ (ডিআইইউ) বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিপাকে পড়েছেন। তারা কেউ বার কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করতে না পারায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রধান ফটক তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা মেরে দেয়ার ঘটনাটি ভুয়া। আন্দোলনরত কিছু শিক্ষার্থী আমাদের কাছে এসে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। গতকালও আমরা বার কাউন্সিলরের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আশা করছি খুব শিগগ্রই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়টির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছামতো ভর্তি নিয়েছে, আমরা ভর্তি হয়েছি। এখন আমরা সমস্যায় পড়েছি। আমাদের সমস্যা নিয়ে এখন আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছি। অথচ আমাদের এই সমস্যায় পড়ার কথা নয়। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বার কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড না পাওয়ায় ঢাকা ইন্টার ন্যাশলান ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) বনানী ক্যাম্পাসে তালা দেয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবন, ইনফরমেশন ভবন ও আইন বিভাগসহ মূল গেটে তালা মেরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অনশন করতে থাকেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পারে ভেতরে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেন। পরে বিকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসটিতে পুলিশ মোতায়েন করে। এর আগে মঙ্গলবার বিকাল থেকে সারারাত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করে বিক্ষোভ ও অনশন করে।  

শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করেছেন। তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল বার কাউন্সিল থেকে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য ডাকা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এও জানান, বারের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে।

তবে অনশন চলাকালে রাতে কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ফলে বুধবার আবারও শিক্ষার্থীরা অনশনে নামেন। বিক্ষোভকারী এলএলবি অর্নাসের শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা ২০১৮ সালে মোট ১৫৯ জন পাস করলেও আমাদের বার কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য ডাকা হয়নি।

স্টামফোর্ডের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা রিট করার পর উচ্চ আদালত একটা যুক্তির কারণে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু অন্যান্য সেশনে তো এই যুক্তির অন্তর্গত নয়। ফলে তারা সমস্যা পড়বে।

আইন বিভাগে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর বিষয়ে জানতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্যদের সঙ্গে কথা বলতে তাদের মোবাইল ফোনে ফোন করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি। 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, আইন বিষয়ে শিক্ষার মান ঠিক রাখার স্বার্থে ২০১৪ সালে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না বলে একটি চিঠি ইস্যু করি। কিন্তু এরপরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ভর্তি বন্ধ হয়নি। এখনো কেউ কেউ ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছে। অতিরিক্ত ভর্তি করালে ওই শিক্ষার্থীরা বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিতে পারবে না, কারণ বার কাউন্সিল থেকেও এটা বলা আছে আবার উচ্চ আদালতের একটি রায়েও তা বলা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি আশা ইউনিভার্সিটি ঢাকা ইন্টার ন্যাশলান ইউনিভার্সিটি ডিআইইউ ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন