banglanewspaper

রাজশাহীতে থানা থেকে বের হয়ে শরীরে আগুন দেয়া কলেজছাত্রী লিজা রহমান (২০) মারা গেছেন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার ভোরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। তার আত্মহত্যার কারণ জানতে মাঠে নেমেছে দুটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। যার মধ্যে একটি মানিবাধিকার কমিশন এবং অপরটি পুলিশের।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকতাকে তদন্তভার দেয়ার পাশাপাশি আজকের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাটির সঠিক কারণ জানতে পৃথকভাবে তদন্ত করছে মানবাধিকার কমিশনও। আর এমন ঘটনায় সঠিত তদন্ত শেষে কলেজছাত্রী লিজাকে কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। 

টানা চার দিনের শরীর পোড়া যন্ত্রণা ভোগ করে মৃত্যুর কাছে হার মানলো রাজশাহী মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিজা রহমান। 

জানা গেছে, পরিবারের কাছে গোপন রেখে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র সমবয়সী সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন লিজা। জুলাই মাসে ঘটনা জানাজানির পর ছেলের পরিবার মেনে না নিলে শুরু হয় সংসার জীবনে কলহ। এক পর্যায়ে কোনও উপায় না দেখে লিজা ছুটেছিলেন থানা পর্যন্ত।

রাজশাহী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দা নিলুফার ফেরদৌস বলেন, মেধাবী ছাত্র লিজা রহমান কিছুদিন যাবৎ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। সে কলেজেও অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে ঝামেলার কারণে তার এ অবস্থা হয়েছে। তাই লিজা স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থানায় গিয়েছিল। 

সেখানে এমন কী হলো যে, থানা থেকে বের হয়েই গায়ে আগুন দিল? এর সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে তার শাস্তির দাবি জানান এই অধ্যক্ষ। 

এদিকে, থানায় অভিযোগ না দিয়ে কেন সে আত্মহ্যার চেষ্টা চালালো? -এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালককে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে কমিটির সদস্যরা। 

বুধবার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সিটি কলেজের লিজার স্বামীর সহপাঠিসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে মহানগর পুলিশ।

ট্যাগ: bdnewshour24