banglanewspaper

যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের ফের নয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মাদ জসিম অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় ৪ ও ৫ দিন করে এ রিমান্ড আদেশ দেন।

অস্ত্র ও মাদক মামলায় ৫ দিন করে দশ দিনের রিমান্ড শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করল আদালত। ৯ দিন রিমান্ডের মধ্যে অস্ত্র মামলার ৪ দিনের রিমান্ড তার দ্বিতীয়দফা রিমান্ড এবং মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় প্রথম রিমান্ড।

এর আগে বুধবার ১টার দিকে জিকে শামীমকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা সোয়া ৩টার দিকে তাকে প্রথমে সিএমএম আদালতের দি¦তীয় তলার ২৭ নম্বর আদালত কক্ষের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। সেখানে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরপর তাকে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য একই ভবনের ৭ তলার ১৮ নম্বর আদালত কক্ষের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। সেখানে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ জসিম অস্ত্র মামলায় ফের সাত দিনের এবং মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন।

সেখানে আসামি পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুর রহমান হাওলাদার ও ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রচিসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন।

শুনানিতে আসামি পক্ষে আইনজীবীরা বলেন, ‘বৈধ অস্ত্র। সেখানে এর আগে চার দিনের রিমান্ড হয়। এরপর আবার সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছে। বৈধ অস্ত্রে তো মামলাই চলে না। তাই ফের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর মানি লন্ডারিং আইনের মামলাও এ আসামির বিরুদ্ধে চলে না। কারণ তার কাছে যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা নগদ পেয়েছে তা বৈধ টাকা। তিনি বর্তমানে হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ করছেন। সেখানে ৬ হাজার কর্মচারী কাজ করেন। প্রতিদিনই সেখানে খরচ আছে। তাই নগদ টাকা রেখেছিলেন। আর এফডিআরও বৈধ। তাই এখানেও রিমান্ড মঞ্জুর হতে পারে না। বরং জামিন দিলে তার ঠিকাদারি কাজ করতে সহায়ক হবে।’

আসামি পক্ষের শুনানি মাঝখানে লোহার খাচার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জিকে শামীমকে হঠাৎ বুক ব্যথা, বুক ব্যথা, ওষুধ দাও, ওষুধ দাও বলে বুক চেপে ধরে কাঠগড়ায় বসে পড়তে দেখা যায়। তখন বিচারক জানতে চান কিসের ব্যথা। উত্তরে তিনি বলেন, হার্টের ব্যথা। শুনানির পর তাকে কাঠগড়ার ভেতরেই ওষুধ সেবন করানো হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জেনারেল রেকডিং অফিসার (জিআরও) পুলিশের এসআই শেখ রকিবুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ডের পক্ষে এবং জামিন আবেদনের বিরুদ্ধে শুনানি করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক অস্ত্র মামলায় ফের চার দিনের এবং মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ আসামির অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এবং মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে রিমান্ডে থাকা আসামি জি কে শামীমসহ সাত দেহরক্ষীকে আটকের সময় নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুর ডলার, জি কে শামীমের মায়ের নামে ট্রাস্ট ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার করে ৪টি এবং ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক মহাখালী শাখায় ১০ কোটি টাকা করে ৪টি এফডিআর, শামীমের নামীয় ট্রাস্ট ব্যাংক কেরানীগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার একটি এফডিআর, জব্দ করা হয়। এছাড়া ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই উদ্ধারও হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো সদুত্তর প্রদান বা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করার জন্য মজুদ রেখেছিল বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেদের সামনে স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। তাই অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে এ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

ট্যাগ: bdnewshour24 জি কে শামী