banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, ময়মনসিংহ থেকে ফিরে:

"করবো সবাই রক্ত দান,
গুছে যাবে সব ব্যবধান,
বেঁচে যাবে একটি প্রাণ" 
"মানুষ মানুষের জন্য- 
জীবন জীবনের জন্য " 
সেখানে ধনী- গরীবের পার্থক্য থাকবেনা, মুসলিম-হিন্দুধর্মের লোক বলে বিবেচনা করবেনা। শুধুমাত্র মানুষ হিসেবে গন্য হবে রক্ত গ্রহীতা। এমন মতাদর্শে একজনের জীবনের প্রয়োজনে  জন্য রক্ত দিতে ৫২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতাল গিয়েছিল রুবেল মিয়া। ক্রেচে ভর দিয়ে হাসপাতালে যেতে দেখে রোগীর স্বজনরা প্রতিবন্ধী বলে সরাসরি তাকে জানানো হলো "তোমার রক্ত নেয়া যাবেনা"। রক্ত নিলে সন্তান প্রতিবন্ধী হবে"। এসময় পঙ্গু রুবেল কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বলে জানা যায় । 

২ অক্টোবর দুপুরে এমন এক ঘটনা হৃদয় বিদারক ঘটেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

স্বেচ্ছাসেবক রুবেল মিয়া (৩৫) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার অয়ন্যপাশা গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। ৭/৮ বছরে বয়সে অজানা এক রোগে আক্রান্ত হয়ে পুঙ্গ হয়ে যান তিনি। তবে, পঙ্গু বলে নিজেকে অসহায় না ভেবে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি মুদী দোকানে ব্যবসা করে আসছেন রুবেল ।

জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল রুপালী ব্যাংকে কর্মরত শাহানাজ খাতুনের পিত্তথলীর অপারেশন করতে বি পজেটিভ (B+) রক্তের প্রয়োজন হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে তার স্বামী এবং পরিবারের লোকজন যখন কোথাও রক্তদাতা খোঁজে পাচ্ছেন না, তখনই নান্দাইল উপজেলা ব্লাড ডোনেট সোসাইটির একজন স্বেচ্ছাসেবীর সাথে যোগাযোগ হয়। এসময় মো. রুবেল নামের এক ব্যক্তি রক্ত দিতে ৫২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। ক্রেচে ভর দিয়ে যেতে দেখে (পঙ্গু দেখতে পেয়ে) তার রক্ত গ্রহনে অস্বীকার জানানো হয়। এসময় রুবেল বারবার বলছিল-"আমার রক্তে কোন দোষ নাই,আমার রক্তটা নেন৷ সমস্যা থাকলে তো ডাক্তার না করে দিবে"। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে রুবেল কেঁদে দিয়ে বলেন "আমার আম্মার চিকিৎসার সময় রক্ত পাইনি। তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সারাজীবন আমি রক্ত দিয়ে যাবো৷ কিন্তু আমিতো পঙ্গু। আমি রক্ত দিবো কিভাবে? আমার রক্ত নিতে অনেকে অস্বীকার করে।

মানব সেবায় রক্তদান সংগঠন ঘাস ফড়িংয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এডমিন মোঃ রহমত উল্লাহ্ জানান, স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে ময়মনসিংহ শহর থেকে ৫২ কি.মি. দূরে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে রুবেল খুশিমনে ছুটে যান। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারনে ক্রেচে ভর দিয়ে হাঁটেন তিনি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটেন বলে শাহনাজ খাতুনের স্বামী সরাসরি  বলে দিলেন 'পঙ্গু লোকের রক্ত নেওয়া যাবে না'! 

আমার কথা হলো,রক্ত নেওয়ার আগে তো প্যাথলজিস্টরা অবশ্যই এই লোকটার রক্ত পরীক্ষা করতো৷ সমস্যা থাকলে অবশ্যই না করে দিতো৷ আর নিজের কোনো সমস্যা নেই জেনেই তো লোকটা রক্ত দিতে গিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া লোকটাকে আমি স্যালুট জানাই৷

এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য ওই রোগীর স্বজনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
 

ট্যাগ: bdnewshour24 পঙ্গু