banglanewspaper

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে আজও উত্তাল বুয়েট। আবরারের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়া থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মিছিলটি বুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভ শেষে শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, বুয়েট উপাচার্য বিকাল পাঁচটার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহিতা না করা পর্যন্ত তারা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করবেন। ১১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হলো খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা খুনিদের সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তা তাকে স্বশরীরে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একইসঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেনো ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা ভিসিকে মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

একইসঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা চলাকালীন সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগ: বুয়েট