banglanewspaper

পাখির প্রধান খাদ্য শামুক। দুই ঠোঁটের ফাঁকের মধ্যে শামুখ ভাঙায় এরা বিশেষ পারদর্শী। হয়তবা এ জন্যই এই পাখির স্থানীয় নামকরণ হয়েছে শামুকখোল। শামুকভাঙা নামেও এরা পরিচিত।

তবে এরা হলো এশিয়ান শামুকখোল। ইংরেজি নাম Asian Openbill. আর বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans.

এরা সাইকোনিডি গোত্রের এক প্রজাতির পাখি। আকারে এরা বেশ বড়। অনেকটা শকুনের মতো। এদের আরেকটি প্রজাতি হলো আফ্রিকান শামুকখোল। শামুক ছাড়াও এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ঝিনুক।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হাইল হাওর থেকে এশিয়ান শামুকখোলের ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার তারিক হাসান।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, শামুকখোল মূলত হাওর, বিল বা এই জাতীয় বড় জলাশয়ের ধারে কাছে থাকে। এরা কখনো ছোট ঝাঁক বেঁধে, কখনোবা  একত্রে দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে। সাধারণত খাবারের অভাব না হলে এরা স্থান পরিবর্তন করে না।

বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে এদের দেখা যায় । বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।

তবে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার। ঠোঁট ও পা লম্বা। দুই ঠোঁটের মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকে।

এই ফাঁকের ভিতরে শামুক বা শামুক জাতীয় বস্তু ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে ভেঙে ফেলে ভিতরের জীবন্ত অংশটুক খেয়ে নেয়।

এদের চোখের রঙ সাদাটে। প্রজননকালে প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির দেহ একদম সাদা হয়ে যায়। এই সময় পা অনুজ্জ্বল পাটকেল বর্ণ ধারণ করে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি একই রকম দেখা যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস এদের প্রজনন কাল।

আবার স্থানভেদে এদের প্রজনন ঋতুতে বিভিন্নতা দেখা দেয়। এ সময় তারা উঁচু গাছে ডালপালা দিয়ে বড় মাচার মতো বাসা বাঁধে। ২ থেকে ৫টি ডিম দেয়। ডিমের রঙ সাদা। স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দেয়। ২০ থেকে ২৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

এরা ভোরবেলায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। পানির ধারে বা অল্প পানিতে হেঁটে হেঁটে কাদায় ঠোঁট ঢুকিয়ে শামুক, ঝিনুক আর গুগলি তুলে খায়।

ট্যাগ: bdnewshour24 শামুক ভাঙা পারদর্শী