banglanewspaper

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা হতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দুই দিন আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাকিল আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিসের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করছি সেটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবো।’

এর আগে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য পাঁচ দফা দাবি না মানলে আন্দোলন থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১২ অক্টোবর) তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

প্রসঙ্গত, আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত তিনটার দিকে হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন ৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। এ হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট থেকে দলীয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

ট্যাগ: bdnewshour24 বুয়েট