banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকার আশুলিয়ার চারাবাগের শিশু আব্দুস সাত্তার আহরার (১১) হত্যা মামলায়র আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে এনটিভির কথিত এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে। নিহত আহরারের বড় ভাই আহমদুল্লাহ মাসুম ও এই মামলার একজন স্বাক্ষী হিসেবে সাক্ষাৎকার নেয় এনটিভির এক প্রতিবেদক।

সেই সাক্ষাৎকারে আহমদুল্লাহ মাসুম তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।  কিন্তু এনটিভির প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক অংশটুকু কেটে প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়, কথিত সাংবাদিক ইচ্ছাকৃতভাবে খুনীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। 

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আহরারের ভগ্নিপতি মুহম্মদ মফিজুল ইসলাম। 

লিখিত বক্ত্যবে তিনি বলেন, গত ১০ অক্টোবর এনটিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি খুনিদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে প্রচারিত হয়েছে। ওই সংবাদে প্রচার করা হয় যে, আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই ভিডিও প্রচার করে যে, আমি দেশব্যাপী মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য আদালত পাড়ায় ঘুরে বেড়াই। অথচ আমি উক্ত মামলার স্বাক্ষীদের নিয়ে আদালতে গিয়েছিলাম। 

মুহম্মদ মফিজুল ইসলাম আরও বলেন, মামলার আসামীদের হুমকীতে এলাকা ছাড়া নিহতের পরিবার। আসামী সাইমনগং বাদী মফিজুল ইসলামের পরিবারকে নতুন করে শায়েস্তার হুমকী দিয়েছে। এতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বাদী মফিজুল ইসলামের পরিবার।

সাংবাদিকদের সহযোগীতা চেয়ে তিনি বলেন, নিহত শিশু আব্দুস সাত্তার আহরারের অসহায় পরিবারের পক্ষে এগিয়ে আসুন এবং হত্যাকারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিতে প্রকৃত খুনীদের মিডিয়ায় চিহ্নিত করুন। পাশাপাশি খুনীদের সহযোগী এবং পক্ষ অবলম্বনকারীদের হলুদ সাংবাদিক সফিক শাহীনগংদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সরকার ও প্রশাসনের নিকট নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৫টি দাবি উত্থাপন করা হয়-

১) শিশু হত্যাকারীদের বাঁচাতে সাংবাদিক সফিক শাহীন প্রতারণাপূর্ণ সংবাদ প্রচার করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।  মানবাধিকার লঙ্ঘন করায় তাকে আইন আনুসারে বিচার করা।

২) খুনীদের পক্ষ নিয়ে বাদী ও সাক্ষীদের ভীতি প্রদর্শণ করতে সাংবাদিকতার মত দায়িত্বপূর্ণ পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় প্রতারক সফিক শাহীনকে সাংবাদিক মহল থেকে বয়কট করা।

৩) এই চাঞ্চল্যকর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খুনীদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা। 

৪) খুনিদের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি থেকে রক্ষা পেতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শিশু আব্দুস সাত্তার আহরারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৫) মিডিয়াকে ব্যবহার করে একটি শিশু হত্যা মামলার খুনীদের আড়াল করতে এবং মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভীতি প্রদর্শন করতে যারা এনটিভিকে ব্যবহার করেছে সেই প্রতারক চক্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুহম্মদ আহমদুল্লাহ মাসুম, মুহম্মদ হামিদুল্লাহ মাসুদ, মুহম্মদ হাফিযুল্লাহ আবরার, মুহম্মদ আব্দুল গফফার আসরার, মুহম্মদ আনোয়ার, মুহম্মদ মনোয়ার ও এ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ঢাকার আশুলিয়া থানার চারাবাগ এলাকার আসামী সাইমন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মফিজুল ইসলামের শ্যালক আব্দুস সাত্তার আহরারকে (১৩) নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে জবায়ের পর হত্যা করে। নিখোঁজ শ্যালকের সন্ধানে প্রথমে জিডি ও পরবর্তীতে মামলা করেন নিহতের ভাই মফিজুল ইসলাম। আশুলিয়া থানার মামলা নং-১৯। মামলার তদন্তে এজাহারে আসামী সজিব এবং মালেকের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে মূল হোতা ফযলে হাসান সাইমন এবং সোহরাব হোসেনের নাম উঠে আসে।

ট্যাগ: bdnewshour24 আসামি