banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে রাতের বেলা ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের প্রবেশের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হোস্টেলের মেট্রোন, নৈশপ্রহরী ও রাঁধুনিসহ তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কারসহ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে হোস্টেলে বসবাসকারী একাধিক ছাত্রী জানান, গত রোববার রাত নয় টার পর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বি কয়েকজন কর্মী নিয়ে হোস্টেলে প্রবেশ করেন। সে নিচ তলার ডাইনিং রুমে প্রবেশ করে এক ছাত্রীর নাম ধরে চিৎকার দিয়ে ডাকতে থাকেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইলের মাধ্যমে অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ জানালে পুলিশে খবর দেন তিনি। পরে পুলিশ হোস্টেলে এসে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বিসহ তার সহযোগীদের হোস্টেল চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যায় বলে জানায় তারা। এ ঘটনায় পরদিন দ্বায়িত্বে অবহেলার কারনে হোস্টেলের মেট্রোন নাসরিন আকতার, নৈশপ্রহরী আবদুস সালাম ও রাঁধুনি রাজিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মঙ্গলবার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হোস্টেলে ছাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদারসহ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবিতে অধ্যক্ষের রুম এক প্রকার অবরুদ্ধ করেই তার সাথে সাক্ষাৎ করেন হোস্টেলের সাধারণ ছাত্রীরা। এ সময় অধ্যক্ষের নিকট হোস্টেলের সুপারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুল ধরেন তারা। 

এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোস্টেলে প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ‘ঘটনার দিন রাত্রে আমাদের কিছু কর্মী পিকনিকের আয়োজন করেছিল। ছাত্রী হোস্টেলের রাঁধুনি সেই পিকনিকের রান্নার কাজ করে দিয়েছিলেন। সেই খাবার বাইরে এনে খেয়েছি আমরা । আমরা কেউ হোস্টেলের ভেতরে  ঢুকিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সামনের কলেজ সংসদ নির্বাচনে একজন সক্রিয় প্রার্থী যে কারনে আমার সুনাম নষ্ট করাতে এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। 

জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটির তেমন কোনো সত্যতা নেই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তাতে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ঘটনায় বরখাস্থ হোস্টেল সুপার উম্মে কুলসুম নাসরিন বলেন, সন্ধ্যায় হোস্টেলের বাইরে থেকে কিছু ছেলে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানালে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টার পর হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও ঢুকতে বা বেরোতে পারে না। আর বহিরাগতদের ঢোকার প্রশ্নই ওঠে না।

সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বিডিনিউজ আওয়ারকে জানান, ‘ওই দিন হোস্টেলের বাইরে কিছু ছেলে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে। জানামাত্র পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ছাত্রদের সরিয়ে দেন। ছাত্রলীগের ছেলেদের পিকনিকের বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি আমরা। তবে রাতে হোস্টেলে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ আসায় ইতিমধ্যেই ‘দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ঠ তিন জনকে সাময়িক বরখাস্থ করাসহ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা ছাত্রলীগ