banglanewspaper

প্রায় তিন মাস হতে চললো ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বন্দিদশা অবস্থা। এখনো সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে হাজার হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য।

এতদিন হয়ে গেলেও সেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো তোড়জোড় দেখা যাচ্ছেনা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের। এই নিষেধাজ্ঞা কবে উঠানো হবে সে বিষয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনভি রামনার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ বলেন, ‘দু’মাস হয়ে গেছে। আপনারা আর কতদিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে চান? এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মনোভাব স্পষ্ট করুন এবং ওখানকার সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য পদ্ধতি খুঁজুন। প্রয়োজনে আপনারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই পারেন। কিন্তু, সরকারের সিদ্ধান্তটি পুনরায় খতিয়ে দেখা উচিত।’

এ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করে, শেষমেশ আর কতদিন জম্মু-কাশ্মীরে আপনারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখবেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য আর কতক্ষণ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে? আদালত এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে তাদের জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি সুভাষ রেড্ডি নির্দেশ দেন, সরকার প্রতিদিন কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করুক। আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, প্রতিদিনই গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ৯৯ শতাংশ নিষেধাজ্ঞাই শিথিল করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

আদালতে সরকার পক্ষ সাফাইতে জানায় যে, রাজ্যটিতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে আন্তঃসীমান্ত সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। আদালত এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেখানে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হলেও রাজ্যটিতে ইন্টারনেট পরিসেবা সম্পূর্ণ বন্ধই রয়েছে। এখনো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ কাশ্মীরীরা।

ট্যাগ: bdnewshour24 কাশ্মীর কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্ট