banglanewspaper

ঘরের পোষা প্রাণিটি যেন শুধু একটি প্রাণি নয়, আমাদের ঘরেরই একজন সদস্য। তাই, নিজের খেয়াল যতটুকু রাখছেন, সেই খেয়ালটুকু ছোট্ট এই সদস্যের জন্যও রাখা জরুরি। বর্তমানে পোষা প্রাণিদের জন্য কাঁচা মাংস দিতে চাইছেন অনেকেই। 

 

কাঁচা মাংস তাদের শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর হবে এমন ভাবনা থেকেই এই খাবার বেছে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর হিসেবে যে কাঁচা খাবার আপনার প্রিয় প্রাণিটিকে দিচ্ছেন আপনি সেটা তার স্বাস্থ্যের জন্য আদৌ ভালো তো? চলুন, দেখে নেওয়া যাক!

 

এর আগে অনেকেই কাঁচা মাংসের পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, পোষা প্রাণিরা এমন খাবার খাবে, সেটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে এর বিপরীতেও অনেকে কথা বলেছেন। সম্প্রতি সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্স এবং ন্যাশনাল ভেটেরেনারি ইন্সটিটিউট দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় মোট ৬০ রকমের কাঁচা মাংসের ওপরে পরীক্ষা চালানো হয়। 

 

এই মাংসগুলো ১০টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারা উৎপাদিত ও বাজারজাত করা হয়েছিল। সুইডেন, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও নরওয়ে থেকে সংগৃহীত এই মাংস কোনোরকম উষ্ণতার মধ্য দিয়ে যায়নি বলে এতে নানারকম জীবাণু বিদ্যমান আছে এমনটাই মনে করছিলেন তারা। 

 

আসলেই কি কাঁচা মাংসে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু ছিল?

 

গবেষকদের পরীক্ষিত মাংসের মধ্যে ছিল-

 

কাঁচা মাংস
খাওয়ার উপযোগী হাড়
মুরগী, ভেড়া, টার্কি ইত্যাদি নানারকম প্রাণির অঙ্গ
এছাড়াও, কিছু কিছু কাঁচা মাংসের সাথে কাঁচা সব্জি মিশ্রিত ছিল। 

 

প্রাথমিকভাবে গবেষকরা এমন সব জীবাণু খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন যেগুলো মানুষ ও প্রাণি দুজনের জন্যই ক্ষতিকর। 

 

দেখা যায় যে, স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে এই কাঁচা মাংসে। আছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াশে নামক এক রকমের ব্যাকটেরিয়া যেটি পাকস্থলী এবং অন্ত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই খুব বেশি শারীরিক সমস্যা তৈরি না করলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। 

 

পরীক্ষিত মাংসের এক তৃতীয়াংশে এসকেরিশিয়া কোলি নামক এক রকমের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও সি পেরিফ্রিংজেন্স এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কিছু ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে যেটি সুইডিশ নিরাপত্তাসীমার চাইতে বেশি। 

 

এছাড়াও মাংসে স্যামোনেলা এবং ক্যাম্পিলোব্যাক্টার নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াও খুঁজে পাওয়া যায়।

 

পোষা প্রাণির শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

 

চিকিৎসকদের মতে, পোষা প্রাণির শরীরে কোনোরকম ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে সেটি মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে। এতে করে মানুষ আক্রান্তও হয় সহজে। এ জন্য পোষা প্রাণির সুস্থতা নিয়ে আমাদের অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত। গবেষকরা খাবার প্রস্তুতকারক এবং যাদের পোষা প্রাণি আছে তাদেরকে কাঁচা মাংসের ক্ষেত্রে মাংসটিকে-

 

১। খাওয়ানোর আগে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চাইতে কম তাপমাত্রায় রাখার 
২। অন্যান্য খাবার থেকে দূরে রাখার এবং
৩। পোষা প্রাণির খাবারের পাত্র আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। 

 

চিকিৎসকরা জানান যে, কাঁচা মাংসে থাকা জীবাণু খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, যদি মাংসের তরল বা রক্ত মেঝেতে পড়ে, তাহলে সেটা খুব দ্রুত মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং সংক্রমণ তৈরি করে। 

 

এছাড়াও, কুকুর কাঁচা মাংস খাওয়ার পর যদি মানুষের সংস্পর্শে আসে তাহলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

তাই চেষ্টা করুন আপনার পোষা প্রাণিকে যে খাবারটিই খাওয়াচ্ছেন, সেটা যেন জীবাণুমুক্ত হয়। চেষ্টা করুন পোষা প্রাণিকে অন্যান্য নিরাপদ খাবারগুলো খাওয়াতে। তবে একেবারেই যদি কাঁচা মাংস খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে যথাযথ সতর্কতা মেনে চলুন। বিশেষ করে যদি বাসায় কোনো শিশু থাকে তাহলে কাঁচা যেকোনো খাবার পোষা প্রাণিকে খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। 

 

সূত্র- মেডিকেল নিউজ টুডে

ট্যাগ: bdnewshour24 মাংস প্রাণি