banglanewspaper

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান চত্বরে অস্থায়ী পূজা মণ্ডপে শিক্ষার্থীরা রবিবার বিকাল থেকেই পূজা আর্চনা শুরু করেন। এরই সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসে হাজারো প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দিপাবলী বা দেওয়ালি।

হিন্দু পুরাণ মতে কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালি নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামার। তাই তিনি শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংগ্রামের প্রতীক।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজল রায় জানান, এবারই প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও মণ্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী ও ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। সন্ধ্যায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মণ্ডপসহ পুরো ক্যাম্পাসে কয়েক হাজার প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা করা হবে। রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী পূজার পাশাপাশি থাকবে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার জানান, আমাদের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের একান্ত প্রচেষ্টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা প্রথমবারের মত এই পূজার আয়োজন করেছি। এ পূজা আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য। এখানে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিদ্যমান রয়েছে। আমরা তা আমাদের কথার মাধ্যমেই নয় কাজের মাধ্যমেও প্রমাণ করতে পেরেছি।

ট্যাগ: bdnewshour24 জবি