banglanewspaper

এম,লুৎফর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মনোহরদী থানার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের ব্রজেরকান্দি গ্রামে মায়ের কোল খালি করে ৩ বছরের শিশুকে জোর পূর্বক নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিল শিশুটির পাষন্ড দাদা হাতিরদিয়া রাজিউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের কেরানী মহি উদ্দিন।

সুত্রে জানা যায়, ৪ বছর পূর্বে একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের ব্রজেরকান্দি গ্রামের ফালু মিয়ার ছোট মেয়ে মারুফা আক্তার (১২) কেরানী মহি উদ্দিনের বাড়ী কাজ করত। ঐ সময় মহি উদ্দিনের ছেলে ডাচ বাংলা ব্যাংকে কর্মরত বাছেদ(১৯) এর লালসার শিকার হন অবলা নাবালিকা মারুফা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া মারুফার সাথে অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তুলে বাছেদ।

পরবর্তিতে অবৈধ সম্পর্কের জেরধরে মারুফা গর্ভবতি হলে, পরিবারে প্রকাশ পাইলে মারুফার শাশুরি গর্ভপাত নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে অসুধ খাইয়াইলেও বাচ্ছা নষ্ট করতে ব্যর্থ হয়।

এলাকায় ঘটনাটি প্রকাশ হলে সমাজের চাপে বাধ্য হয়ে মৌলভী দিয়ে বাছেদের সাথে মারুফার বিয়ে দেন মহিউদ্দিন কেরানী। কিন্তু বাচ্ছা প্রশব হওয়ার কিছুদিন পর পিতা মহি উদ্দিন কেরানী এবং এলাকার মাতব্বর আফছুর উদ্দিন মাস্টার, অরুন মিয়া ও স্থানীয় মেম্বার জসিম মৃধার সহযোগীতায় রফাদফা করে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাচ্ছাসহ মারুফাকে তালাক দেয় বাছেদ।

৩ বছর শিশুটিকে মা মারুফা লালন পালন করলেও গত ৭ দিন পূর্বে স্থানীয় মাতব্বর আফছুর উদ্দিন মাস্টার, অরুন মিয়া ও স্থানীয় মেম্বার জসিম মৃধার সহযোগীতায় শিশুটির পিতা বাছেদ ও দাদা মহি কেরানী মারুফার কাছ থেকে জোর পূর্বক সাদা কাগজে সই নিয়ে মায়ের কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে যায়।

মারুফা ও এলাকাবাসী গণমাধ্যমকে জানান, টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে পাষন্ড দাদা মহি কেরানী। এই বিষয়ে মহি কেরানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এলাকার মাতাব্বর ও স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা খরচ করে সকল সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমার মান-ইজ্জত রক্ষার্থে বাচ্চাটিকে আমি অন্যত্র রেখে দিয়েছি।

কিন্তু বাচ্চাটিকে গনমাধ্যম কর্মীদেরকে দেখাতে ইচ্ছুক নন মহি কেরানী।

বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, পূর্বে কি হয়েছে, তা আমি অবগত নই। তবে শিশুটি মার কোল থেকে কেরে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, শিশুর মা আমার কাছে তার শিশুটি পাওয়ার আকুতি জানালে আমি মহিউদ্দিনকে ডেকে সবকিছু বিস্তারিত শুনে, দুই দিনের মধ্যে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে মহিউদ্দিনকে বলেছিলাম। কিন্তু আজ ৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও, তার মা শিশুটিকে এখনো ফেরৎ পায়নি বলে জানিয়েছে।

আমি এই বিষয়টি নিয়ে সম্পুর্ণ ব্যর্থ, আমার মনে হয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই উত্তম।

ভূক্তভোগী নাবালিকা মারুফা গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমি আমার স্বামীর অধিকার ও সন্তানকে ফিরে পেতে চাই এবং স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’

ট্যাগ: bdnewshour24 জনপ্রতিনিধি মনোহরদী শিশু বিক্রি