banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ১৯ অক্টোবর জ্বরে আক্রান্ত হন গৃহবধু রোজিনা আক্তার। বাড়িতে তিনদিন প্রাথমিক চিকিৎসায় জ্বর না কমাতে ভর্তি করা হয় টাঙ্গাইল ২৫০ সজ্জা জেনারেল হসপিটালে। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২২ অক্টোবর চিকিৎসকরা জানায় রোজিনার ডেঙ্গু। চলছিল ডেঙ্গুর চিকিৎসা। কিন্তু সেটা খুবই অপ্রতুল এবং চিকিৎসকরাও অবহেলা করছিলো।

সবশেষ গত রোববার জানানো হয় রোগীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। দ্রুত এখান থেকে অন্য হাসপাতালে নিতে হবে। পরে রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একদিন আইসিউতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারটির অভিযোগ, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডেঙ্গু জেনেও গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করেনি। রোগীর শরীরের অবস্থার যখন অবনতি হয় তখন স্বজনদের কাছে 'রিস্ক বন্ড' সই চাওয়া হয়। না দিলে তাকে হাসপাতালে রাখা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। উপায় না দেখে রোববার তাকে ঢাকায় আনা হয়। রোজিনার বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার তিতেশ্বরী গ্রামে। তার স্বামী মোহাম্মদ লতিফ একজন প্রবাসী।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ। ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকায় মৌসুম শেষ হলেও আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ধীরগতি আনা যাবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব বলছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ডেঙ্গু সন্দেহে ২৪৮টি মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৭১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১০৭টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আপ-ডাউনের মধ্যে রয়েছে। এ বছর ৭ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল। ওই দিন ২৪২৮ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। এখন এই সংখ্যা ২০০-তে নেমে এসেছে।

রোজিনার স্বজনরা জানায়, প্রথমেই যখন ডেঙ্গুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল, তখনই ভালো কোন হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে হয়ত মৃত্যু হতো না। কারণ প্রথম দিকে রক্তে প্লাটিলেট খুবই ভালো ছিল। সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া আস্তে আস্তে প্লাটিলেট কমতে থাকে; পরে মৃত্যু হয়।

এছাড়া উত্তরা বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে- রোগীর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হবার পর এখানে আনা হয়েছে। দুদিন আগে এলেও তাকে সুস্থ করে তোলা যেত।

গত আগস্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি উচ্চপর্যায়ের দল কাজ করছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় একটি সেলও চালু করেছে। চিকিৎসকরা ঠিকমতো কাজ করছেন কিনা, তার খোঁজ রাখছে। কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের বক্তব্য জানতে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তারা ফোন ধরেনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 চিকিৎসা ডেঙ্গু আক্রান্ত