banglanewspaper

রবীন শরীফ, মাগুরা: প্রায় তিন মাস আগে পাটুরিয়া ফেরি ঘাট হতে নিখোঁজ মাগুরার মানুষিক ভারসাম্যহীন যুবক আশারাফুলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে প্রায় তিন মাস পর ফিরে পেলো তার পরিবার।

ফেরি ঘাটে শরীরে ঘা আর ক্ষত অবস্থায় তাকে দেখে উদ্ধার করে  চিকিৎসা সেবাসহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন পথচারী অতিকুলসহ কয়েক যুবক।

আশরাফুলের পরিবার জানায়, মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার বরইছরা গ্রামের রতন বিশ্বাসের ছোট ছেলে মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন আশরাফুল (২২) গত আগষ্টে ঈদের আগের রাত্রে বৃদ্ধা মায়ের সাথে ঢাকার বোনের বাসা হতে ফেরার পথে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে নিখোঁজ হন। অনেক খোজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। গত পরশু রাতে এলাকার এক পরিচিত যুবকের মাধ্যমে ফেসবুকে আশরাফুলের সন্ধান চেয়ে ও তার অবস্থানের কথা জানিয়ে ফেসবুকে মাগুরার এক সাংবাদিকের পোস্ট দেখে জানতে পেরেন তারা।

সেখানে দেয়া নাম্বারে যোগাযোগের পর সকালে নিখোজের প্রায় তিন মাস পর ফরিদপুর মেডিকেলে অসুস্থ অবস্থায় আশারাফুলকে খুজে পায় তার পরিবার। যদিও এরই মাঝে একটি হাতের কব্জি হারাতে হয়েছে আশরাফুলকে।

তবু হারানো স্বজনকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেয়ে প্রানে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন পরিবার। হাসপাতালে দির্ঘদিন পর স্বজনদের উপস্থিতি দেখে আশারাফুল ও তার মায়ের বাধভাঙ্গা কান্যায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

বড় ভাই আতিকুল জানান, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সকলের ছোট আশরাফুল মানুষিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। বছরের কিছু সময় তার মানুষিক সমস্যা বৃদ্ধি হয়। মায়ের সাথেই বেশি থাকে সে। গত কোরবানির ঈদের আগের রাত্রে মায়ের সাথে ঢাকা হতে ফেরার পথে কাটুরিয়া ফেরি ঘাটে বাস থেকে নেমে নিখোঁজ হয় সে।

এরপর তাকে আর খুজে পাননি তারা। এদিন ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে গ্রামের এক যুবকের মাধ্যমে যোগাযোগের পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ফিরে পেলাম তাকে। এ সময় দৌলদিয়া ঘাট হতে আতিকুল নামের এক পথচারী যুবক সারা শরীরে ঘায়ের ক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর ক্ষত স্থানে (গ্যাংরিন) সৃষ্টি হওয়ার কারনে হাতের কব্জি কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানালেন চিকিৎসক।

ডাক্তার রিলিজ দিলেই তাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়ে তাকে উদ্ধারসহ এই খুজে পেতে সহায়তাকারি সকলের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা