banglanewspaper

আহছানউল্লাহ্ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী শরিফুল আলমের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অবৈধভাবে পদে থেকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্বেচ্ছাচারীভাবে পরিচালনা করার অভিযোগ ড. কাজী শরিফুল আলম। এমন অভিযোগ তার পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার (২৮ অক্টোবর) থেকে তেজগাঁও ক্যাম্পাসের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। 

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) উপাচার্যের কক্ষ, প্রশাসনিক ভবন, ট্রেজারার কক্ষ, লাইব্রেরি,  ও রিডিং রুমসহ ক্যাম্পাসের সকল কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, মতার জোরে অবৈধভাবে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে বসেছেন অধ্যাপক ড. কাজী শরিফুল আলম। শুধু তাই নয়, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদ দখল করেছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় নামকরা ও চৌকষ শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে রিজাইন দিতে বাধ্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী শরিফুল আলম। সেমিস্টার ফি বাড়ানোর পরও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি ও তার চাটুকার কিছু কর্মকর্তার জন্য আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তার সুনাম হারাতে বসেছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, চ্যান্সেলর কর্তৃক নিযুক্ত ভিসি-প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ নেই বেসরকারি আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ভারপ্রাপ্ত বা অনিয়মিত ভিসি কর্তৃক স্বাক্ষরিত অকার্যকর মূল সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য প্রায় আড়াইহাজার গ্র্যাজুয়েটকে ডাকা হয়েছিল ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১তম কনভোকেশনে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সমাবর্তনে আসেননি। সমাবর্তন স্থগিত করা হয়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. ভিসিকে প্রশাসনিক সব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তার দায়িত্বকালে নেয়া সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

২. বর্তমান ভিসির জন্য যে ১০ সিনিয়র ফ্যাকাল্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে তাদেরকে স্ব-সম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে।

৩. প্রতি সেমিস্টার বাবদ নেয়া অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তা অথরিটিকে জানাতে হবে। 

৪. ক্লিয়ারেন্সে টাকা দেয়ার নতুন আরোপিত নিয়ম বাতিল ও ক্যারি ক্লিয়ারেন্সে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৩ করতে হবে।

৫. ইউনিভার্সিটিতে এলাইমনাই অ্যাসেসিয়েশন গঠনে সম্মতি দিতে হবে।

৬. সেমিস্টারে এস্টাবলিস্টমেন্ট এবং ডেভোলপমেন্ট ফি নেয়া হলেও তার সব সুবিধা দেয়া হয় না, এ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাব সুবিধা, ক্লাস রুম উন্নয়ন, ওয়াশ রুম সংস্কার, নিরাপত্তা জোরদার, ক্যান্টিনের খাবার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, যাতায়াত ব্যবস্থা ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. উপাচার্য ড. কাজী শরিফুল আলম যখন ইনচার্জ ছিলেন তখন ১ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল সিভিল বিভাগের সরঞ্জমাদির জন্য, কিন্তু সেই সরঞ্জমাদিগুলো এখনো আসেনি। তাই ওই টাকার হিসাব দিতে হবে উপাচার্যকে। 

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর আহছানউল্লাহর ভারপ্রাপ্ত ভিসি স্বাক্ষরিত অকার্যকর সনদের কনভোকেশনের খবরে ক্ষোভে ফেটে পরে গ্র্যাজুয়েটরা। চ্যান্সেলর কর্তৃক নিযুক্ত ভিসি-প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ নেই বেসরকারি আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ভারপ্রাপ্ত বা অনিয়মিত ভিসি কর্তৃক স্বাক্ষরিত অকার্যকর মূল সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য প্রায় আড়াইহাজার গ্র্যাজুয়েটকে ডাকা হয়েছিল ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১তম কনভোকেশনে। ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে বৈধ ভিসি নিযুক্তির পর এসব গ্র্যাজুয়েটদের ফের সনদ নিতে হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। চ্যান্সেলর কর্তৃক নিযুক্ত না হলে ভিসি-প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষরা অবৈধ বা বিধি মোতাবেক নিযুক্ত নন। আর ভারপ্রাপ্ত ভিসি থাকা অবস্থায় কনভোকেশন করতে পারেন না এবং মূল সনদে স্বাক্ষর করতে পারেন না।
 

ট্যাগ: bdnewshour24 আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি