banglanewspaper

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের ২৩ বছরের তরুণী চাস্তিতি প্যাটারসন তখন ছোট্ট একটা বালিকা। মফস্বল শহর থেকে এসে ভর্তি হয় বড় শহরের নামকরা স্কুলে। চাস্তিতি কৃষ্ণবর্ণের বলে অনেকেই এড়িয়ে চলত তাকে। ওদিকে মা-বাবাও কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। মেয়ের স্কুলের নাচ, গান বা অভিনয়ের কোনো অনুষ্ঠানেই তারা হাজির থাকতে পারেন না।

ছোট্ট চাস্তিতি একা একা মনমরা হয়ে থাকে। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর স্কুলের এক নাচের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় জেসন লিগনস নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। চাস্তিতি দেখে অনেক শিশুর সঙ্গেই তার বেশ ভাব। দুদিনের মধ্যেই জেসনের সঙ্গে তারও ভাব জমে যায়। ধীরে ধীরে সেই ভাব এতটাই গভীর হয় যে চাস্তিতি তাকে বাবা ডাকতে শুরু করে। বিষয়টি মেনে নেয় তার পরিবারও। নতুন বাবার সঙ্গে সময়গুলো ভালোই কাটতে থাকে চাস্তিতির।

তবে ২০১৪ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই জেসনকে হারিয়ে ফেলে চাস্তিতি। এরপর প্রতিদিনই হারানো ওই বাবার নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে যাচ্ছিল সে। মাঝে জেসনের মৃত্যুর উড়ো খবর পেলেও মেসেজ পাঠানো বন্ধ করেনি চাস্তিতি। গেল সপ্তাহের আগে পর্যন্ত কোনো জবাব মেলে না। তবে এ সপ্তাহের এক সকালে সে ওই নম্বরে ম্যাসেজ পাঠায়, ‘ হায় বাবা, এটা আমি। আগামীকাল আবার আমার জন্য একটি কঠিন দিন হতে যাচ্ছে।’ এর কিছু সময় পরেই তাকে অবাক করে দিয়ে ফিরতি ম্যাসেজ আসে। নিজের নাম ব্রড দাবি করে জবাবদাতা জানান, ফোনটি তিনিই এখন ব্যবহার করেন। চার বছর ধরে তিনি তার সব মেসেজ পেয়েছেন। সবগুলোই আবেগ নিয়ে পড়েছেন।

তবে তিনি তার বাবা জেসন নন। ব্রড নামের ওই ব্যক্তি ফিরতি ম্যাসেজ লিখেছেন, কাকতালীয়ভাবে তিনিও তার মেয়েকে ২০১৪ সালেই হারিয়েছেন। এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার মেয়ে।

এদিকে চাস্তিতি ওই ম্যাসেজ পাওয়ার পর তার এক স্ক্রিনশট নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে। এরপরই ভাইরাল হয় সেটি। গতকাল পর্যন্ত তার সেই পোস্ট ১ লাখ ৩৫ হাজার জন পছন্দ করেছেন। শেয়ার করেছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার জন। মন্তব্য করেছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

ট্যাগ: bdnewshour24 যুক্তরাষ্ট্র