banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ সর্ব রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফজলু দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ করে আসছে সকল রোগের চিকিৎসা। চারটি চেম্বারে কাক ডাকা ভোর হতে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে তার সকল রোগের চিকিৎসা।

চেম্বার ও রোগী দেখার সময় হল দপ্তিয়র বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার, বাঁচা-মরা বাজারের চেম্বারে রবিবার ও বুধবার , একতা বাজার কৃষ্ণ দিয়ার কোল বসে সোমবার ও বৃহস্পতিবার। সপ্তাহে দুই দিন বসেন প্রতি চেম্বারে। সূর্য উদয় থেকে ১১ টা পর্যন্ত প্রতিদিন বাড়িতেই প্রাকটিস করে পরে যান চেম্বারে।

ডাক্তার ফজলুর সাথে আলাপ করতে গেলে এমনটাই জানা তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রায়শই তাকে রাত কাটাতে হয় রোগীদের বাড়িতে। গত সপ্তাহেই একটি বাড়িতে সন্তান প্রসবের জন্য গিয়ে রাতে রোগীর বাড়িতেই থাকতে হয়েছিল। এমন ঘটনা তাকে প্রায়শই মোকাবিলা করতে হয়।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের দপ্তিয়র বাজারের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মো. আরশেদ আলীর ছেলে ফজলুল হক ডাক্তারের একটি চেম্বারে গিয়ে লোমহর্ষক ডাক্তারীর প্রত্যক্ষ করে দেখা যায় তিনি প্রতিটি রোগী কেই দেন মিশ্র ঔষধ। প্রথমেই তিনি রোগীদের এক ডোজ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেতে দেন।

গড়ে প্রতি ১০ জনের ৮ জন রোগী কে এলোপ্যাথিক ইনজেকশন পুশ করে দিয়ে হারবাল ইউনানি, এলোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বাড়িতে খাওয়ার জন্য দিয়ে দেন। ঔষধের দাম ও তার চিকিৎসার ফিস দুই মিলিয়ে টাকা নেন তিনি। ব্যবহার করেন তৃতীয় জেনারেশন এর এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন, ১ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত বাদ পড়েনা কেউ এমন চিকিৎসা থেকে। টেবিলেই সজানো থাকে ৮-১০ টি সিরিঞ্জ।

তবে ঐ দিন  ১ ঘন্টায় তাকে টিউমার, জন্মবিরতিকরণ, স্ত্রী রোগ, হৃদরোগ, জ্বর, চোখের সমস্যা, হাঁপানি, এবোরশন, চর্ম, যৌন, প্রসূতি,  শিশু রোগ এর  চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।

এক কথায় তিনি সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এবং এলোপ্যাথিক, হারবাল ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মহা মিশ্রণেই রোগীদের সুস্থ করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি যে ম্যেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে লেখা পড়া করেছেন টেলিফোনে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আড়াল করতে পারেননি তিনি ডাক্তারী পড়াশোনা করেননি। পরে তিনি নিজেকে প্যারামেডিক ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসাবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু কথোপকথনে প্রশ্নের বেড়াজালে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।

অবশেষে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন কিন্তু পরীক্ষা দেয়া হয়নি। তার মামা ডাক্তার ছিলেন তার ভাই ডাক্তার তিনি কম্পাউন্ডার। তবে চিকিৎসা সেবায় তার কোন প্রশিক্ষণ নেই বলেও জানিয়ে সংবাদ না প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেন।

বাবর নামক এক ভুক্তভোগী বলেন, ফজলু ডাক্তার ৫ম শ্রেণি পাশ করেনি, কিন্তু দাপটের সাথেই ৪টি চেম্বারে অসংখ্য নিরিহ অশিক্ষিত গরীর জনগোষ্ঠীকে প্রতিদিন প্রতারিত করে আসছে। প্রশাসনের নীরবতা ও সদর হাসপাতাল সহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীদের ফাঁকিবাজি এই শ্রেণির লোকদের প্রতারণার পথকে প্রসারিত করেছে। সদর হাসপাতালের ডাক্তার সংঙ্কট ধোর্য্যের বাধ ভেঙ্গে দিয়েছে।

আজ অব্দি কোন স্বাস্থ্য বা পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মী তাদের বাড়িতে আসেনি। তাদের এলাকায় এমন কোন কর্মী আছে বেল তার জানা নেই। এছাড়াও ফজলু ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় ইতিপূর্বে দূঘটনায় একটি গর্ভের শিশু মারা যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ঐ গ্রামের অপর বাসিন্দা ধুবড়িয়া ১নং ওয়ার্ডের মেম্বর কাদের এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ফজলু ৫ম শ্রেণি পাশ করেনি। আগে এক ডাক্তারের ব্যাগ ও যন্ত্রপাতি বহন করত। আজ সে বড় ডাক্তার হয়েগেছে। তবে কিভাবে সে আজ এত বড় ডাক্তার হলো তা আমার জানা নেই।’

এলাকাবাসী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গ্রামকে শহর বানানো স্বপ্ন পূরণ করতে হলে, আমাদের গ্রামের মত সকল অবহেলিত গ্রামের মৌলিক চাহিদার পূরণ করতে হবে। তাবেই পূর্ণঙ্গ সফলতা দৃশ্যমান হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকতা ডা. মো. আশরাফ আলী বলেন, আপনার মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে অবগত হলাম। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

ট্যাগ: bdnewshour24 পঞ্চম শ্রেনি