banglanewspaper

অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবে। সোমবার রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তার পুরো পরিবার বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন। সাদেক হোসেন খোকা নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা স্ত্রী ইসমত হোসেন, একমাত্র মেয়ে সারিকা সাদেক, দুই ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, ইশফাক হোসেনসহ অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ক্র্যাক প্লাটুনের এই গেরিলা যোদ্ধা দীর্ঘ পাঁচ বছর দুরারোগ্য কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার প্রথম জানাজা হয়েছে। জানাজার আগে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা তার প্রতি সম্মান জানান। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ দেশে আসবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যান।

তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি খোকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ম্যানহাটনের স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। গত ক’দিন ধরে খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তার স্বজনরা।

বামপন্থি রাজনীতি ছেড়ে আশির দশকে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন খোকা। ওই সময় নয়াবাজার নবাব ইউসুফ মার্কেটে বিএনপির কার্যালয় থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করে সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই অন্দোলনে ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব খোকাকে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এতে খোকা পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন।

জনবান্ধব নেতা: খোকা পুরান ঢাকার গোপীবাগে তার পৈতৃক বাড়িতে থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু রাজনীতিতে নন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরেই ১৯৭২ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবকে তিন বছরের মধ্যে তৃতীয় থেকে প্রথম বিভাগে উন্নীত করেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খোকা ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও ফরাশগঞ্জ ক্লাবের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যান ছিলেন। পুরান ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, খোকাকে তারা সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাশে পেতেন। যখনই ডাক পড়েছে, তখনই তিনি ছুটে গেছেন পুরান ঢাকাবাসীর কাছে। তাই খোকার মতো সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন বলে মনে করেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম রাসেল।

সাদেক হোসেন খোকা টেলিফোনে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই দেশ ও মানুষের সেবা করার মনোবৃত্তি তৈরি হয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও ঢাকায় মন পড়ে রয়েছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যেন ঢাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে পারি, সে জন্য সবার দোয়া চাই।

ট্যাগ: bdnewshour24 খোকা