banglanewspaper

প্রতিনিয়ত আমরা অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করছি। অভাব-অনটনে ধৈর্যধারণ করা রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহান আদর্শ। একটি ঘটনা- রসুল (সা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি আর বেলাল সফরে বের হয়েছি। একাধারে তিন দিন চলে গেল। আমাদের সঙ্গে প্রাণ বাঁচানোর মতো খাবার নেই সামান্য খাবার ছাড়া, যা বেলাল বগলের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।’ (তিরমিজি শরিফ)। রসুল (সা.)-এর কাছে প্রস্তাব করা হয়েছিল, ‘তুমি যদি চাও ওহুদ পাহাড়কে স্বর্ণে পরিণত করে দেওয়া হবে।’ রসুল (সা.) বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি এটা চাই না। আমি চাই, একদিন আহার করব আর তোমার শোকর আদায় করব। আরেকদিন অভুক্ত থাকব আর সবর করব।’ রসুল (সা.)-এর দোয়া ছিল এরকম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে গরিব অবস্থায় রাখো, গরিব অবস্থায়ই আমার মৃত্যু দান করো, গরিবদের সঙ্গেই আমার হাশর করো।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি শরিফ)।

সবর ও শোকর— এ দুটি এমন মহৎ গুণ, যা মানুষকে সরাসরি জান্নাতে পৌঁছে দেয়। সবরের দ্বারা মহান আল্লাহতায়ালার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা হয়। যে কোনো বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করা মূলত আল্লাহতায়ালার কাছে নিজেকে চরমভাবে সোপর্দ করার নির্দেশ করে। তাই সবরের সওয়াব অনেক বেশি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সবরের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা)। আরেকটি হলো শোকর। শোকর আদায় করলে আল্লাহতায়ালা নেয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেন। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা আমার নেয়ামত পেয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো, তাহলে আমি নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে নেয়ামত ছিনিয়ে নেব।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)। শোকর আদায় করলে আল্লাহতায়ালা বান্দার নেয়ামত বাড়িয়ে দেন। নেয়ামত বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বিভিন্ন রূপ হতে পারে। কখনো নেয়ামতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কখনো নেয়ামতে বরকত দান করেন। যেমন— সম্পদের পরিমাণ না বাড়িয়ে তাতে বরকত দান করে দেন। এ জন্যই অনেক দিনদার শ্রেণি দেখা যায়, অল্প রোজগারে সুখ-শান্তি ও তৃপ্তির সঙ্গে জীবনযাপন করছে। সুতরাং অভাব-অনটনে ধৈর্যধারণ করা ও সচ্ছলতায় শোকর আদায় করা রসুল (সা.)-এর সুন্নত। আমাদের প্রত্যেকের জন্য এ সুন্নত পালন করা জরুরি।

সুতরাং আমাদের সব সময় অতিকষ্টের মাঝেও সবর করা উচিত, আবার অল্প প্রাপ্তিতেও আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

ট্যাগ: bdnewshour24 অভাব