banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের জিরানী বাজার এলাকায় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আফাজ উদ্দিন বেপারী ও তার ছেলে শাহীন গংদের বিরুদ্ধে।

অথচ ওই জমির বিল সরকারের কাছ থেকে একে একে দুইবার উত্তোলণ করেও নিজেদের দাবী করে জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আফাজ উদ্দিন গংরা।

সম্প্রতি জমির কিছু অংশ দখলে নিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ভুমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ভোক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক ওই ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক জানান, গাজীপুর সিটি কপোর্রেশনের কাশিমপুর থানাধীন পশ্চিম পানিশাইল মৌজাস্থিত সিএস ০৭ এসএ ১৮ নং খতিয়ান এবং সিএস ও এসএ ৮নং দাগে মোট জমির পরিমাণ ১৭৮শতাংশ। এই জমির মধ্যে জনৈক গুতু খাঁ ছিলেন ৮৯ শতাংশের মালিক এবং ছহিম খাঁ ছিলেন ৮৯ শতাংশের মালিক। গুতু খাঁয়ের ৮৯ শতাংশ জমি পরবর্তীতে এসএ ১৯ নং খতিয়ানে এবং এসএ ৮নং দাগে আ: সামাদের নামে রেকর্ড হয়।

ওই সম্পত্তি বিগত ০৭/১১/১৯৫৯ সালে কেরু বেপারী নামের এক ব্যক্তি আব্দুস সামাদের নিকট থেকে ক্রয়সূত্রে সিএস ও এসএ ৮নং দাগে ৮৯ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে কালিয়াকৈর-নবীনগর-নয়ারহাট সড়ক এর নিমার্ণ কাজ আসলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই অধিগ্রহণে কেরু বেপারীর মালিকানাধীন ৮৯শতাংশ জমি থেকে ৩০শতাংশ জমির একওয়ারকৃত ক্ষতিপূরণ বিল ৭১/৬৪-৬৫ নং এল এ কেইস মূলে ঢাকা কালেক্টরী অফিস থেকে ৯০০ টাকা উত্তোলন করেন।

এর দুই বছর পর আরএস রেকর্ড অনুষ্ঠিত হলে কেরু বেপারী সিএস ও এসএ ৮ নং দাগে সর্বদক্ষিণের অংশে আরএস ৮নং খতিয়ানে এবং আরএস ৩৪ নং দাগে প্লট কেটে ৮৩শতাংশ জমি রেকর্ড করান। সেখানে ভুলবশত ২৪ শতাংশ জমি বেশী রেকর্ডভোক্ত হয়। 

রেকর্ডভোক্ত হওয়ার ১৫ বছর পর সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহণকৃত ৩০ শতাংশ জমির বিল পুণরায় উত্তোলণের জন্য কেরু বেপারীর ওয়ারিশগণ যথাক্রমে সৈয়দ আলী, রুনু বেপারী, মোগর আলী, আফাজ উদ্দিন বেপারী একটি আরপিট্রিশন মামলা (নং ১৩৩/৮৩) দায়ের করেন। এর ১০ বছর পর আদালতের রায় ডিগ্রী করে ২৯/০৯/১৯৯৩ সালে ০২৬০৮৯৬ নং এলএ চেক মূলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ৯৯৭১.২৫টাকা বিল উত্তোলন করেন। পর পর দুটি বিল উঠনোর পরেও পুনরায় ওই জমি তাদের দাবী করে জবর দখলের পায়তারা করছে বলেও জানান ভোক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক।

তিনি আরো জানান, আমি ও আমার ভাই সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক ছহিম খাঁ অংশ ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করি। যার মধ্যে আমি আনোয়ার হোসেন মল্লিক ২৪ শতাংশ জমি এবং আমার ভাই ৬৫ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হই। আমার ২৪শতাংশের অংশ থেকে জিরানী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও নেকজানীয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় ৪ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেই এবং আমার ও আমার ভাইয়ের ৮৫ শতাংশ জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করতে থাকি। কিন্তু ওই জমির অংশ থেকে ২০ শতাংশ জমি ওই ভুমিদস্যু চক্রটি তাদের দাবী করে অবৈধভাবে জবর দখলের পায়তারা করছে।

এদিকে, গাজীপুর সাব জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা (নং ২০/২০০৪) দায়ের করলে ওই মোকদ্দমায় আমার পক্ষে ২২/০৯/২০০৫ সালে রায় এরপর ২৯/০৯/২০০৫ সালে ডিগ্রী জারি এবং সবশেষে ২৮/০১/২০০৬ সালে কমিশন এর মাধ্যমে জমি মাপঝুপ করে আমাকে বুঝিয়া দেন।

কিন্তু এরপরও আফাজ উদ্দিন গংরা রায়, ডিগ্রী ও কমিশনের বিরুদ্ধে একটি মিস মোকদ্দমা (নং ১২৬/২০০৫) দায়ের করেন। পরবর্তীতে মিস মোকদ্দমাটি মূল কেসে (নং ১৬৬/১২) রুপান্তরি হয়ে ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত গাজীপুরে চলমান রয়েছে। 

অপরদিকে, জমি জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিগত ৭/০৮/২০১৮ সালে জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের, কাশিমপুর থানায় গত ২৬/০১/২০১৯ এবং ২১/০৯/২০১৯ ইং তারিখে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন ভোক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক। কিন্তু থানায় অভিযোগ করার পরেও আফাজ উদ্দিন গংরা ওই জমি জবর দখল করে ভাড়া দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবী, আমার বৈধ সম্মতি উদ্ধারপূর্বক সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবী জানান ভোক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আকবর আলী জানান, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে ওই জমিতে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 জিরানী