banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যবসার পণ্য সামগ্রী কিনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিতে উঠেছিলেন সুপারি ব্যবসায়ী আতিকুর। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছলে সিএনজি হতে নেমে যান তিনি।

সকল যাত্রীরা নেমে গেলে কাগজে মোড়ানো একলাখ ১৫ হাজার টাকা সিএনজির সিটের পাশে পড়ে থাকতে দেখে সে টাকা কুড়িয়ে পেয়ে মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন। সততার এমন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সিএনজি চালক হযরত আলী।

১১ নভেম্বর সোমবার দুপুরে  উপজেলার বরমী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সিএনসি চালক হযরত আলী উপজেলার বরমী এলাকার মহর আলির ছেলে। তিনি শ্রীপুর- বরমী আঞ্চলিক সড়কসহ  বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চালান। টাকার মালিক শ্রীপুর পৌর শহরের বাসিন্দা আতিকুর রহমান। তিনি একজন সুপারি ব্যবসায়ী। 

হযরত আলী বরমী এলাকার মহর আলির ছেলে। তিনি শ্রীপুরে বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চালান। টাকার মালিক শ্রীপুর পৌরশহরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান। তিনি সুপারি ব্যাবসায়ী। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হযরত আলী বলেন, সোমবার দুপুরে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে তিনি বরমী যাচ্ছিলেন। তার গাড়ির সামনের আসনের যাত্রী ছিলেন আতিকুর রহমান। গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছালে সব যাত্রী নেমে যায়। পরে গাড়ির সিটের পাশে কাগজের পোঁটলা দেখতে পান।

এটি দেখে তার কাছে মনে হয়েছে ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা টাকার প্যাকেট। চালক টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের অপেক্ষায় সিএনজি স্টেশনে ১ ঘন্টা বসে থাকেন। এর মধ্যে আতিকুর রহমান দিশেহারা হয়ে স্টেশনে টাকা খুঁজতে আসেন। তাকে দেখে চালক এগিয়ে গিয়ে টাকার প্যাকেট পাওয়ার কথা জানান।

টাকা গ্রহনের পর আবেগ আপ্লূত হয়ে আতিকুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীতে সৎ মানুষ একনো রয়েছে। যার প্রমান হজরত আলী। আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ টাকাই ছিল আমার মূল পুঁজি। টাকা পেয়ে ব্যবসায়ী জীবন ফিরে পেলাম।’

বরমী বাজার ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, ‘বর্তমানে সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য মানুষ কত  কিছুই না করে। কিন্তু হজরত আলী ১ লাখ টাকা বেশি পেয়েও ফেরত দিল যা সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার জানান, ‘হজরত আলী একজন সৎ মানুষ। তার মধ্যে কোন লোভ নেই। এমন ব্যক্তির জন্যই সমাজ বা পৃথিবী এখনো টিকে আছে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর