banglanewspaper

গত আগস্টের শুরু থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কাশ্মীর। রাজ্যের মর্যাদা বাতিলের পর থেকে সেখানে মোতায়েন রয়েছে কয়েক লাখ সেনা। ভারত সরকার কাশ্মীরের স্বাভাবিক অবস্থা দাবি করলেও এখনো অবরুদ্ধ কাশ্মীর। জনজীবনে স্বাভাবিকতার ছিটেফোটাও নেই।

স্বাভাবিক কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্যও ধ্বংস হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রবল তুষারপাত শুরু হয়েছে কাশ্মীরজুড়ে। এতে বিদ্যুতবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ এলাকা। আলো জ্বালাতে সামান্য মোমবাতিও মিলছে না।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তুষারপাত শুরু হয়েছে কাশ্মীরে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।আলো জ্বালানোর জন্য বাজারে মিলছে না মোমবাতি এবং ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে বাজারে মিলছে না এলপিজি কয়েলও।

তুষারের বেশি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর। উপড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের অনেক খুঁটি। বারামুলা এলাকায় প্রায় ছয় ফুট পুরু বরফ জমেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম দু’তিন দিন পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের বড় অং‌শ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। শ্রীনগরে মাত্র ৪০ শতাংশ বাসিন্দার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রবল ঠান্ডা ও বিদ্যুতের অভাবে কাহিল হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে কাশ্মীরে মালামাল পরিবহন করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। যার কারণে বাজারে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণে মোমবাতি ও এলপিজি কয়েল। এছাড়া তুষারপাতের কোনো পূর্বাভাসও দেয়নি ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীতে ঘর গরম রাখার জন্য কাশ্মীরিরা যে পাত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন, সেই কাংরিও এখনও বাজারে আসেনি। শেখ ইরান নামের এক কাশ্মীরী বলেন, ‘কাশ্মীরে বুখারি নামে এক ধরনের হিটারের চল আছে। সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। কয়লার দোকানও বন্ধ।’

এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে বাড়ছে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ। তুষারপাতের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে জম্মু-শ্রীনগর সড়ক। এতে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে কাশ্মীর।

ট্যাগ: bdnewshour24 তুষারপাত বিদ্যুতহীন কাশ্মীর মোমবাতি কয়লা