banglanewspaper

পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে দুই শতকের ঘর ছাড়িয়েছে। বাজার থেকে রান্নাঘর এক পেঁয়াজেই অসহায় সাধারণ মানুষ।

নিত্যপণ্যটির দর নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় অভিযান, বড় শিল্প গ্রুপের পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা, বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও দাম কমার পরিবর্তে বেড়েই চলেছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই এ পণ্যের দাম বেড়েছে ৫০-৬০ টাকা।

গত দেড় মাস ধরে দেশের পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন। আড়তদাররা আমদানিকারকদের দোষারোপ আর আমদানিকারকরা অদ্ভুত সব অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। আর তাদের মাঝখানে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সংসদেও পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা নিয়ে কড়া সমালোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটা বাজার ঘুরে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকার বেশি দেখা গেছে। অসহায় ক্রেতারা চড়া দামেই স্বল্প পরিমাণ পেঁয়াজ কিনে ঘরে ফিরছেন।

এবারের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, সকালের দামের সঙ্গে বিকালের দামের আকাশ-পাতাল তফাত। রামপুরার কামাল উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে ১৬০ টাকা দাম দেখে অল্পকিছু পেঁয়াজ কিনেছিলেন। বিকালে গিয়ে শোনেন ২২০ টাকা কেজি। একই তথ্য জানা গেছে ঢাকার কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল বাজারে। সেখানে পেঁয়াজের দামে সকাল-বিকালের তফাত ছিল প্রায় ৫০ টাকা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো পেঁয়াজের এমন উচ্চমূল্য দেখা যায়নি। সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, পেঁয়াজের এমন দাম কোনোদিন কল্পনাও করেননি তিনি।

আর সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, পেঁয়াজের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তার জানামতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা ছাড়ায়নি।

নিকট অতীতে ২০১৭ সালে একবার পেঁয়াজের দাম ১৫০ হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

ট্যাগ: bdnewshour24 পেঁয়াজ