banglanewspaper

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং বাজারের ব্যবসায়ী পল্টনুজ্জামান পল্টন সরকারি জায়গা একসনা মোকদ্দমা মূলে বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে নির্মিত চারতলা ভবনটি সরানো দির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

গত ২৮ অক্টোবর ৩ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশনাপত্রটি ১৫ দিনেও পৌঁছানি প্রেরকের (পল্টনের) হাতে। অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, একসনা মোকদ্দমা মূলে চিথোলিয়া মৌজার চিরাং বাজারের ১নং খতিয়ানের ১৭৯৬ দাগের ৪০ বর্গমিটার ভূমি স্থানীয় বাট্টা গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে পল্টনুজ্জামান পল্টন ও তার স্ত্রী সাদিয়া জামান বন্দোবস্ত নেন। পরে ওই জায়গায় দোকানঘরের স্থলে নিয়ম বর্হিভূতভাবে দুতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন তিনি।

বহুতল ওই ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এছাড়া ভবনের পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ বাজারের ড্রেনে উন্মুক্ত করে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর ফলে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়েই বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাট্টা গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযোগে আরো বলা হয় দু’তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করায় যেকোনো মুহুর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পল্টনুজ্জামান পল্টন চিরাং বাজারের সরকারি ওই জায়গা নিজের নামে খারিজ করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২৮ অক্টোবর জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিরিন সুলতানা।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পল্টনুজ্জামান পল্টনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘জায়গা খালি করার কোন নির্দেশনাপত্র আমি পাইনি। আর যে জায়গা নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে সেই জায়গা আমার নামে খারিজ ও বিআএস করা। আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ভবন নির্মাণ করেছি।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিরিন সুলতানা’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি সত্যতা পেয়ে ৩ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে জায়গা খালি করার জন্যে গত ২৮ অক্টোবর তাকে পত্র দেওয়া হয়েছে। অদ্যবধি তিনি জায়গায় খালি করেননি এবং অফিসের সাথে কোন যোগাযোগও করেনি। শ্রীঘ্রই আমরা উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে জায়গা খালি করা হবে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 কেন্দুয়া সরকারি জায়গা