banglanewspaper

হংকংয়ের বিক্ষোভ নতুন করে সহিংসতার দিকে মোড় নিয়েছে। পুলিশ দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘিরে রেখেছে। ওই ক্যাম্পাসের ভেতর কয়েকশ বিক্ষোভকারী আটকা পড়েছেন।

রোববার রাতে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষোভকারীদের। সোমবার সকালে বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এর আগে পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ও ইট ছুড়েছে বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার সকালে বিশ্বদ্যালয়ের প্রধান অধ্যাপক জিন গুয়াং তেং একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন যে, তিনি পুলিশের সঙ্গে একটি চুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই বেরিয়ে আসতে পারবে যদি তারা পুলিশের ওপর কোনো ধরনের হামলা না চালায়।

তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা যদি শান্তিপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসে তবে পুলিশ স্টেশনে তিনি নিজেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে থাকবেন। আইনি প্রক্রিয়া যেন সহজ হয় তার চেষ্টা করবেন তিনি।

তবে তার এই বার্তা বিক্ষোভকারীরা হয়তো খুব একটা আমলে নেয়নি। কারণ তারা এখনও ওই ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থান করছেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে বিক্ষোভকারীরা। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সেখানে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র লুইস লাউ বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা যদি পুলিশের দিকে ইট, পেট্রল বোমা মারা অব্যাহত রাখে তাহলে আমাদের গুলি করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

মূলত প্রত্যর্পণ বিলকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিলে বলা হয়েছে যে, হংকংয়ে কেউ গ্রেফতার হলে তাকে চীনের হাতে তুলে দেয়া যাবে। কিন্তু চীনের বিচার ব্যবস্থা ভিন্ন। তাই এই বিলের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেয় হংকংয়ের জনগণ।

লাখ লাখ মানুষ তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন। প্রথমে প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে ধীরে ধীরে তা নিজেদের স্বাধীনতার দাবিতে পৌঁছেছে। গত জুন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

ট্যাগ: bdnewshour24 হংকং