banglanewspaper

সৈয়দ নাজমুল হুদাঃ নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশ নামক একটি নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষের ছিল অনেক আশা। একটি সুখ-সমৃদ্ধির বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল জাতির জনকের। ছিল সীমাহীন সম্ভাবনার হাতছানি।

রাষ্ট্র পরিচালকদের কাছে তখন স্পষ্ট ছিল, এটি রাষ্ট্রের বিকাশ, উন্নতি ও কল্যাণ নির্ভর করে যুগ উপযোগী ও কর্মমুখী, বিজ্ঞান ভিত্তিক  শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। এই উপলব্ধি থেকে জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় শিক্ষানীতি নির্ধারনের জন্য বিশিষ্ট ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ কুদরত -ই-খুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।

কমিশন দেড় বছর যাচাই বাছাই করে ১৯৭৪ সালে ৩ মে রিপোর্ট দাখিল করেন। উক্ত রিপোর্টে কমিশন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন যে, দেশের জনগণকে জাতীয় কর্মে ও উন্নয়নে গঠন মূলক ভূমিকা রাখার ও যোগ্য করে তোলার জন্য একটি সার্বজনীন শিক্ষা পদ্ধতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রসারতায় কর্মমূখী ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এই স্বপ্নের ধারক ও বাহক।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের অন্ধকার ও কলংকময় দিনের রচনাকারীরা বুঝাতে পারে নি এই মহান নেতার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী বাংলায় বীরের বেশে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশের দেশ নায়ক হবেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন, বঙ্গকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সুযোগ্য বড় সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে কত সহজে জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন ও উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে পারে তা আজ আমরা সহজেই বুঝতে পারি। কর্মমুখী ও বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ কল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার মায়ের নামে যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন আজ তা এক নতুন নব দিগন্তের সুচনা করেছে।

জামালপুর জেলার মেলান্দহে অবস্থিত একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। যা আজ থেকে ১ বৎসর আগেও অকল্পনীয় ছিল। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নতি, অগ্রগতি ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন  জামালপুরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবন্ধু, উন্নয়নের দিক দর্শনকারী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি,  সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি আলহাজ্ব মির্জা আজম।

এ ছাড়াও এ কাজে সার্বিক ভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহোযোগিতা করেছেন জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা জনাব মোঃ উবায়দুল্লাহ এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। যারা আজ কল্পনার রাজ্য থেকে বাস্তব রাজ্যে রূপদান করতে সহোযোগীতা করছে এ অসাধ্য কাজটি। 

আর একাজে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদের দিক নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে পরিচালিত হয়েছে। মাননীয়  উপাচার্য মহোদয় এর নেতৃত্বে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে ৪টি বিভাগের মাধ্যেমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। আজ সেই সকল শিক্ষার্থীরা ১ম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে।

ইতিমধ্যে ফরম ফিলাপসহ প্রবেশপত্রও বিতরণ করা হয়েছে। ৪ টি বিভাগের কার্যক্রম থেকে এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় নতুন একটি বিভাগ সহ ৫টি বিভাগ চালু হয়েছে। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিসারিজ কলেজকে আত্তীকরণ প্রক্রিয়াসহ বিশবিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজনীয় সকল ধরনরে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কর্তৃপক্ষ যা দ্রত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান হবে।

শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের ক্ষেত্রে অবদান রাখছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষাকার্যক্রমের জন্য লাইব্রেরী, ল্যাব ও প্রয়োজনীয় সকল সুয়োগ সুবিধা প্রধান করা হয়েছে।  প্রজেক্টরের মাধ্যেমে  শিক্ষাপ্রদান  কার্যক্রম, বিপুল পরিমান দেশী ও বিদেশী লেখকের পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহে কাজ করেছেন কর্তৃপক্ষ। অতি অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম কানুন প্রনয়ন করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত ও প্রগতিশীল দেশে সমূহের মত আউট কাম বেসড সিলেবাস প্রনয়ন ও ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তখন বঙ্গমাতার নামে একটি আধুনিক বিজ্ঞন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক সমস্যার মধ্যেও মাথা উঁচু করে সৎ ও সততার সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা  করছে।

বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। আর এই মহান দায়িত্ব মাননীয় উপচার্য মহোদয় তার গতিশীল নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাঙ্গালী স্বাধীন সত্ত্বার রুপকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রয়োজন এক একজন সৎ, নির্ভীক ও নিষ্ঠাবান উপাচার্য, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। সবাইকে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করতে হবে  কাধে কাধ মিলিয়ে।

বাগানে যেমন বিভিন্ন ফুল ফল বাগানের সৌন্দর্য্য সাধিত করে তেমনি জামালপুরে অবস্থিত বঙ্গমাতার নামে গড়ে উঠা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন জেলার শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যববোধ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়েছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নসহ শিক্ষা কার্যক্রমসহ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের গুরুত্ব বিশেষভাবে অগ্রাধিকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি সত্যকারের অর্থেই বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। মৌলিক অধিকারে গুরুত্ব যেমন সফল নাগরিকের প্রাপ্য তেমনি একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষিত জাতি উপহার দেওয়াও আমাদের মত শিক্ষদের দায়িত্ব।

এই যারা কদিন আগে ভর্তি যুদ্ধে উর্ত্তীন হয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়েছিল।

সবাই কিছু দিনের মধ্যে ১ম ব্যাচ শেষ করে ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত। সেই সাথে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি গতিশীল সুযোগ্য নেতৃত্ব যে পারে অসাধ্য সাধন করতে তার প্রমাণ হতে পারে আমার এই বিশ্ববিদ্যালয়টি । সকলের সহযোগিতা উপচার্যের গতিশীল নেতৃত্ব, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ছাত্র-ছাত্রীদের ত্যাগ সর্বোপরি মায়ের নামে নামকরনই হতে পারে সকল সফলতার কেন্দ্র বিন্দু। উচ্চ শিক্ষার প্রকৃত সফলতা ধরাদিক তোমার বাহুতলে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে গবেষনা ও কর্মমুখী শিক্ষার এক জলন্ত বাতিঘর। আগামী দিনের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় হবে দৃষ্টান্ত। যেখানে থাকবে সকলের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা, থাকবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্যও।

"জ্ঞান হবে বিকাশিত, শিক্ষা হবে কর্মময়। সোনার বাংলায় কীর্তি রবে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার কর্মময়।"

লেখক- প্রভাষক,

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেফমুবিপ্রবি)

জামালপুর।

ট্যাগ: bdnewshour24 নামকরণ