banglanewspaper

রাজধানীতে হঠাৎ করেই লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, তারা শুনেছেন লবণের কেজিপ্রতি দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ আশঙ্কায় তাঁরা বাড়তি লবণ কিনে রাখছেন।

জোগান ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও দেশের কয়েকটি জেলায় লবণের দাম বাড়ার গুজব ছড়ানো হয়েছে। একারণে লবণ সংগ্রহ করে রাখতে দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা। আর এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা লোটার চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে কয়েকটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসন বেশকিছু ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়েছে।

তবে দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর আগোরা, মিনা বাজার, স্বপ্ন ও ডেইলি সুপার শপসহ কয়েকটি সুপার শপ ঘুরে দেখা গেছে তাদের কাছেও লবণ কিনতে আসা অনেক ক্রেতারাই ফিরে যাচ্ছেন। সুপার শপগুলো দাবি করছে, শপে যে লবণ মজুদ ছিল দুপুরের মধ্যে সব লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। 

রাজধানী ধানমন্ডির স্বপ্ন সুপার শপে লবণ কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, হঠাৎ করে শুনতে পেলাম লবণের দাম বাড়বে তাই লবণ কিনতে এসেছি। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ তাদের সুপার শপে নেই বলে জানান  স্বপ্ন সুপার শপের ম্যানেজার আজিজুল হক। 

দেশের লবণ উৎপাদনকারী মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে লবণের জোগান ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। গুজব রটানোকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা না কাটতেই আরেকটি নিত্যপণ্য লবণ নিয়ে হুলস্থুল বাঁধানোর চেষ্টাকে নজিরবিহীন বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারওয়ান বাজারে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। অবশ্য বিক্রেতারা সেখানে প্যাকেটের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) অনুযায়ী ৩৫ টাকা দরে লবণ বিক্রি করছিলেন।

সকালে রাজধানীর কাজীপাড়া, আগারগাঁও, তেজগাঁও ও বেগুনবাড়ি এলাকার বাজার ও মুদি দোকানেও লবণ কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা যায়।

কাজীপাড়ার খালেক জেনারেল স্টোরের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাঁচ বস্তা (২৫ কেজি করে) লবণ বিক্রি করেছেন। তাঁর দোকানে দাঁড়িয়ে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি প্রতি কেজি লবণ সাড়ে ২৬ টাকায় কিনেছেন। তিনি সব সময় এমআরপির চেয়ে কম দামে বিক্রি করেন।

উত্তরার ১২ ও ১৩ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক খালেদ সরকার জানান, বেশ কিছু দোকানে বিক্রেতারা বলেছেন লবণ নেই। সব বিক্রি হয়ে গেছে। একটি দোকানে তিনি লবণ পেয়েছেন। দাম চাওয়া হয়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

বেগুনবাড়ি কুমিল্লা জেনারেল স্টোর অ্যান্ড কনফেকশনারিতে ৪০ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি করতে দেখা যায়, যা এমআরপির চেয়ে ৫ টাকা বেশি।

বাজারে এখন সবচেয়ে ভালো মানের লবণের প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা ৩৫ টাকা। আর সাধারণ লবণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিপণনকারী কোম্পানি এক কেজি লবণ বিক্রি করেন ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে। এত দিন কারওয়ান বাজারের মতো বড় দোকানে এসব লবণ ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, লবণের মূল্য বেশি রাখার খবর পেয়ে অধিদফতরের ৬টি টিম রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ও দোকানগুলো অভিযান চালাচ্ছে। যারা লবণের দাম বেশি রাখবে আমরা তাদেরকে জরিমানা করে আইনের আওতায় আনবো। 

তিনি ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি কোনও ক্রেতা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) বেশি দাম দিয়ে লবণ কেনেন তাহলে যথাযথ প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বরাবর অভিযোগ দাখিল করলে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

লবনের দাম বেশি চাইলে সরাসরি ফোন দিন জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র: ফোনঃ ০২-৫৫০১৩২১৮ মোবাইল: ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮, ই-মেইল: nccc@dncrp.gov.bd

ঘাটতি নেই, বলছে মন্ত্রণালয়
শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্যলবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে।

এ ছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

দেশে প্রতি মাসে ভোজ্যলবণের চাহিদা কমবেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, লবণের মজুত আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে: ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)।

লবণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 লবণ কাজীপাড়া রাজধানী