banglanewspaper

কাজী আশরাফ, নড়াইল: “ভাই শোনেন, শোনেন ভাই, আমরাতো গরিব মানুষ। ওরাতো কুমড়ে লোক, চেয়ারম্যান জোর করে থানা থেকে আমাকে নিয়ে এসেছে। সেখানে ওরা সব কুমড়ির লোক, আমার পক্ষে কেউ নেই। বাপ মা আমরাতো গরিব মানুষ, আমরাতো অসহায়। উনরা আমাকে চাপ দিয়ে বলে কি, আমাদের বিচার যদি না মেনে নেও, তোমরাত গরিব মানুষ, ছেলের অনেক টাকা আছে, ওরা অনেক বড়লোক মানুষ। আমাদেরকে জোর করে সই করে নিয়ে বলে যে ৬০ হাজার টাকায় কেস মেটাতে হবে। ওরা আরও বলে, ছেলে মেয়ে তো উভই দায়ী। টাকা একজনের কাছে রাখছে। আমি আজকে কেস উঠাবো তার পর টাকা দেবে। আমি এখন কি করবো তাই কন? আমি তো মাও হতে পারি, আমি এটা নিয়ে লড়তে চাই। আমাদের কাছে টাকা পয়সা কিছুই নাই। আমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই ধর্ষণের শিকার হওয়া এক নারী তার ভয়ানক অসহায়ত্বের কথা জানান।

ওই নারী আরও জানায়, পুলিশ সদস্য আল মামুন সরদার আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সে বিয়ে করবে না বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয়।

আল মামুন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের মৃত আবু সাইদ সরদারের ছেলে। তিনি সদ্য যোগদান করা একজন পুলিশ সদস্য। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই নারী গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত ওই নারী একজন স্বামী পরিত্যক্ত। তার দুইটি সন্তান আছে। সে দিঘলিয়া ইউনিয়নের মৃত আবু সাইদ সরদারের বাড়িতে মায়ের সাথে ভাড়া থাকতেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ সদস্য আল মামুন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই নারীর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ছুটিতে বাড়ি এসে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ শয়ন কক্ষে নিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে।

অভিযোগের বিষয় স্বীকার করে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্ষক আমানুল্লা আল বারী বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ এনে আল মামুন সরদার নামের পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে এক নারী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অভিযুক্ত আল মানুনের মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় গোপন করে বলেন, 'আমি মামুন না। আমি পেশায় একজন কৃষক।'

ঘটনার সত্যতা আরো গভীরভাবে জানতে তার গ্রামের বাড়ি দিঘলিয়া গিয়ে জানা যায়, তিনি সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ সদস্য। বর্তমানে তিনি খুলনা রেঞ্জের রূপশা থানায় কর্মরত আছেন এবং এ বিষয়ে মিডিয়া প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন ওই পুলিশ সদস্য।

দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিনা ইয়াসমিন বলেন, মেয়ে এবং ছেলে উভয়ই আমার লোক। ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমরা সমঝোতা করে দিয়েছি।

এদিকে এলাকার সচেতন মহলের দাবি, যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহীনির দায়িত্ব বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা-না হলে সমাজে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 নড়াইল