banglanewspaper

আমার বড় ভাই অভিজিৎ রায় হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি বাবা। বিচার দেখে যেতে পারলে তিনি হয়তো কিছুটা স্বস্তিবোধ করতেন- অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অনুজিৎ রায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কথা বলেন।

সকাল সোয়া ১১টায় পদার্থবিজ্ঞানী অজয় রায়ের মরদেহ আনা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায় বরেণ্য এই শিক্ষাবিদকে।

সেখানে অনুজিৎ রায় বলেন, “অজয় রায় আমার বাবা, তিনি এ দেশের একজন বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা। তিনি চাইলে বিদেশে সপরিবারে বসবাস করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এ দেশকে ভালোবেসে বাংলাদেশেই থেকেছেন। তিনি বলতেন, ‘এটা আমার দেশ। আমি এই দেশ ছেড়ে কেন যাব?’ ধর্ম নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল চর্চা, উদার গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন আমার বাবা। এই বাংলাদেশ গড়তে পারলেই তার স্বপ্ন সার্থক হবে।”

এদিন প্রথমেই ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, পরে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর পর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযোদ্ধা অজয় রায়ের প্রতি।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনু বলেন, “অধ্যাপক অজয় রায় জ্ঞানের সাধনা করেছেন, মুক্ত চিন্তার সাধনা করেছেন, মানবতার সাধনা করেছেন, সমাজকে নিয়ে ভেবেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা, জ্ঞানের সাধককে হারালাম।”

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, “আমাদের প্রগতিশীল আন্দোলনে তিনি সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সন্তানকে জঙ্গিরা মেরে ফেলেছে। সন্তানের লাশ বুকে চেপেও তিনি আদর্শ থেকে পিছপা হননি। নতুন প্রজন্ম তার জীবন ও আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হবে।”

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, “বাংলা ভাষা ও বিজ্ঞান চর্চার মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও মানবতার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।”

শিক্ষাবিদ মাহফুজা খানম বলেন, “অজয় স্যার মৃত্যুর আগে তার ছেলে অভিজিৎ হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা আশা করব, দ্রুত অভিজিৎ হত্যার বিচার যেন করা হয়।”

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, “অজয় রায় সারা জীবন মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। উগ্রবাদীরা তাকেও হত্যার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারেনি, কিন্তু তার ছেলে অভিজিৎকে হত্যা করেছে। আমরা দাবি জানাই, দ্রুত এই হত্যার বিচার করার পাশাপাশি উগ্রবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। সেই সঙ্গে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ অজয় রায়ের নামে করা হোক।”

শহীদ মিনারে অজয় রায়ের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথ হল, হাসান ইমাম, শামসুজ্জামান খান, জাসদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, যুব মৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান, ইতিহাস সম্মিলনী পরিষদ, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, গণ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, শর্টফিল্ম ফোরাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, আইন ও সালিস কেন্দ্র, একাত্তরের ঘাতক নির্মূল কমিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ পরিষদ, খেলাঘর আসর, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

পৌনে ১টায় শহীদ মিনার থেকে অজয় রায়ের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। এরপর বারডেম হাসপাতালের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শহীদ মিনার