banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা যখন চারদিকে উড়তে শুরু করছে ঠিক তখনই পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা গনহত্যার পরিকল্পনা করে।

দেশের বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। হায়েনাদের এমন হত্যার শিকার হয়েছিল,শিক্ষক,শিল্পী,সাংবাদিক,কবি,লেখকসহ লাখো মানুষ। এমনই এক নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রেহাজ উদ্দিন আকন্দের ভাই সিরাজ উদ্দিন আকন্দ।

সিরাজ উদ্দিন আকন্দ (জন্ম ১৯৪৫ ইং) গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের মৃত রহম আলী আকন্দের ছেলে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা রেহাজ উদ্দিন আকন্দ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর দিকেই ইন্ডিয়া হতে প্রশিক্ষন নিয়ে ৩ নং সেক্টরের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলীর আন্ডারে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে,দেশ রক্ষায় তিনি যখন যুদ্ধ করছেন মাঠে ওই সময় তার আরেক ভাই কফিল উদ্দিন আকন্দ পশ্চিম পাকিস্থানের কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিল। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আর্মিতে কর্মরত ছিলেন। যদিও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আকতার হোসেন আকন্দ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হওয়া সিরাজ উদ্দিনের এক ছেলে জীবন সংগ্রামে কোনরকম কষ্ট করে সমাজে টিকে আছে। এখনো পর্যন্ত সরকারী ভাবে তাদের পরিবারের কোন খোঁজ নেয়া  হয়নি।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেহাজ উদ্দিন আকন্দ পুলিশের চাকরি শেষ করে অবসর নিলেও বর্তমানে ষ্টোক করে বাক প্রতিবন্ধী অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের অত্যাচারে নিহত ব্যক্তিদের সকল পরিবারের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মাননা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি। 

যুদ্ধকালিন সময়ের মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার মফিজ উদ্দিন মোড়ল জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা  যখন শ্রীপুরে ৫৩ জনের দল নিয়ে আসি। বাড়ীতে এসে শুনি সিরাজকে ধরে পাক হানাদার বাহিনী নিয়ে গেছে। তার ভাই রেহাজ উদ্দিন আকন্দ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের কারনে  সিরাজ উদ্দিন আকন্দকে ধরে নিয়ে যায় বলে জানায় তার পরিবার। পরে শ্রীপুর পটকা গ্রামের আম গাইচ্ছা ভিটায় গজারি বনের ভিতর কয়েকজনকে একসাথে রশি দিয়ে বেঁধে ব্রাশ ফায়ার করে মারা হয়। 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) সিরাজুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাদের অত্যাচার, নিপীড়নের দ্বারা যারা শহীদ হয়েছেন ইতোমধ্যে তাদের তালিকা প্রনয়নের দাবী জানানো হয়েছে। বর্তমান সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। 

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর