banglanewspaper

সরকারি নির্দেশে ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি বার ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে ভারতে। সাইবার স্পেসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরপত্তা, গোপনীয়তা ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকসেস নাও এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অ্যাকসেস নাও’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি নির্দেশে ৩৭৩ বার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে।

২০১৯ সালেই ৯১ বার ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। ২০১৮ সালে নেট বন্ধ হয়েছে ১৩৪ বার। তবে শুধুমাত্র নথিভুক্ত হয়েছে এমন ঘটনার তথ্যই পেয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিষয়গুলো সাধারণত স্থানীয় পুলিশ বিভাগ দেখাশুনা করে।
 
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে বিশেষ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় টেলিকম কোম্পানিগুলো। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নাগালের বাইরে গেলেই নেট বন্ধের পথে যায় সরকার। কখনও দাঙ্গা বা গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ রুখতেও নেট বন্ধ করা হয়। তবে রাজস্থানসহ কিছু রাজ্যে পরীক্ষা চলাকালীন নকল বন্ধ করতেও ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লি, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুনাচল, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও উত্তরপ্রদেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাজ্যগুলোর সব এলাকায় নেট বন্ধ রাখা হয় না, কিছু কিছু বিশেষ এলাকায় করা হয়।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে। 

তবে অ্যাকসেস নাও’র মতে, ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে দেশটিতে। 

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকনোমিক রিলেশন’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কারণে ভারতে ৩০০ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইন্টারনেট