banglanewspaper

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের ৩ টি নদ-নদী দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ শহরের হেমাঙ্গিনি ব্রীজ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করেন।

উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম রাব্বি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাঃ শরীফুন্নেছা, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উচ্ছেদের নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিসি মোঃ আদনান চৌধুরী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আল আসাদ।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, নদীর অবৈধ ১৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। জরিপ ও নোটিশ প্রদানের পরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এই কার্যক্রমে ব্যাপক জনমত তৈরী হওয়ায় অনেকেই স্বেচ্ছায় তাদের বহুতল ভবন ভেঙে ফেলছেন। স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেয়া ইতিবাচক হিসেবে এই কার্যক্রম চলমান থাকতে ও অব্যাহত রাখতে প্রভাব ফেলবে।

এর আগে নদ-নদীসমূহের জরিপ কাজ সম্পন্ন করে সীমানা চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রনয়ণ করে তাদের অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এই কাজ সম্পন্ন করছে।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারদ নদের নাটোর সদর উপজেলা এলাকা, বড়াল নদীর বড়াইগ্রাম উপজেলা এলাকা এবং নন্দকুজা নদীর গুরুদাসপুর উপজেলা এলাকায় একই সাথে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়।

এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় অভিযান চলবে। উচ্ছেদ অভিযানকে সফল করতে নদী রক্ষা কমিটির সভায় প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু হাসান বলেন, জরিপের মাধ্যমে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। ঐ নোটিশের প্রেক্ষিতে তারা সাতদিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নিলে ‘লোকাল অথরিটি ল্যান্ড এন্ড বিল্ডিংস অর্ডিন্যান্স ১৯৭০’ এর ৭ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী মামলা দায়ের ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহন করা হবে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, নাটোর জেলাসহ এই অঞ্চলের নদীকে সচল করতে বড়াল বেসিন ভিত্তিক এক হাজার ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা হয়েছে। এরমধ্যে নারদ নদের নাটোর শহরের পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে নদীর বাঁধ, ওয়াকওয়ে, সিটিংপ্লেস, বনায়নসহ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ রয়েছে।

এটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে গেলে নারদসহ নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাঃ শরীফুন্নেছা বলেন, নদীর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর নিজস্ব সীমানায় ফিরিয়ে আনা হবে। নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনাই উচ্ছেদ করতে সব রকমের প্রশাসনিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 নাটোর