banglanewspaper

নিউইয়র্কে বাড়ি ভাড়া আকাশ ছোঁয়া, এটা সবার জানা। তবে প্রতিবেশি দেশ কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টোও কম যাচ্ছে না। ধেই ধেই করে এখানে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া। নতুন নতুন অভিবাসী এবং কানাডার অন্যান্য শহর থেকে আসতে থাকা জনস্রোত বাড়ি ভাড়া বাড়ার কারণ।

টরন্টোর ড্যানফোর্থ ও স্কারবরোর বাঙালিপাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশি কাজ ও বাচ্চাদের স্কুলে ইংরেজিতে পড়াশোনার সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অন্টারিও প্রদেশে আসছেন তারা। এছাড়া প্রতিবছর প্রায় লাখ পাঁচেক অভিবাসী কানাডায় আসছেন। যাদের বেশিরভাগই স্থায়ী হচ্ছেন টরেন্টোতে। তার মানে প্রায়  পাঁচ লাখ লোকের নতুন আবাসন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে টরন্টোকে। জনসংখ্যার এই চাপ এবং সে অনুযায়ী বাসা কম থাকার কারণেই বাসা বাড়া দিন দিন বেড়ে চলেছে।

এ বছর এক বেড রুমের (আনুমানিক সাড়ে ৫০০ স্কয়ার ফুট) বাসা বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। টরন্টোতে এক বেড রুমের বাসা ভাড়া কম করে ১৬০০ কানাডিয়ান ডলার (এক ডলার সমান বাংলাদেশি ৬৫ টাকা)। যে বাসায় দুই জন ব্যাচেলর অথবা স্বামী-স্ত্রী ও ছোট একটি বাচ্চা থাকার মতো। দুই বেড রুমের বাসা ভাড়া ৩০-৩৫ হাজার ডলারের মধ্যে।

কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে টরন্টোতে জনস্রোতের কারণে এখানে আবাসন ব্যবসাও জমজমাট হয়ে উঠেছে। টরন্টোর রিয়েল স্টেট সূত্র থেকে জানা গেছে, নগরীর বাড়ি বিক্রয়মূল্য এক বছরের মধ্যে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে টরন্টেতে বাড়ি কেনার হারও অনেক বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে টরন্টোতে মোট বাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৭৪৪৮টি। এ বছরের অক্টোবরে সেখানে বিক্রি হয়েছে ৮৪৯১টি।

গত বছরের তুলনায় টরন্টোতে বাড়ির বিক্রির প্রতি ইউনিটের সমন্বিত দাম বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। গত কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি বিক্রির দামে এটা হলো সবচেয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধি।

এদিকে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়ার কারণে অল্প আয় করা মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে টরন্টেতে। স্বামী-স্ত্রী দুজনে কাজ না করলে সংসার চালানো কঠিন। একজনের রোজগারে কোনরকম সংসার চললেও মাস থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তেমন কিছুই থাকে না। এ কারণে অনেকেই সরকারি সাহায্য নিচ্ছেন মাসের পর মাস।

ট্যাগ: bdnewshour24 টরন্টো