banglanewspaper

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রতি পক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলা দায়েরের পায়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ভূক্তভোগী তারা মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এমন অভিযোগ করছেন।

জানা গেছে,জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১২ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বোরো ধান কাটতে গেলে তারা মিয়া ছোট ভাই বাকপ্রতিবন্ধী শাহজাহানকে বেধরক মারধোর করে একই গ্রামের মোঃ সোলেমান গংরা। এ অবস্থায় শাহজাহান বাচাঁতে তার মা ও ভাই কাজল এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করে।

এতে শাহজাহানের একটি দাঁত ও শাহজাহানের মায়ের দু’টি দাঁত ভাঙ্গাসহ গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে তারা মিয়া বাড়িতে এসে মা-ভাইয়ের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হামলা কারীরা তারা মিয়ার বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট করে।

এ বিষয়ে তারা মিয়া বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। কয়েকদিন চিকিৎসা দিয়ে শাহজাহানকে বাড়িতে নিয়ে এলে তার শারিরীক অবস্থা অবনতি দেখা দিলে আবারো নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহানের মৃত্যু হয়। এর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং মামালাটি তদন্তভার চলে যায় সিআইডি’র হাতে। সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান আকন্দ দীর্ঘ তদন্তে পর ১৪৩/৩৪১/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০২/৩০৭/৩৭৯/১১৪/৫০৬ (।।) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এদিকে পুলিশ চার্জসীট দেয়ার আগে মামলাটি তুলে বাদী বিভিন্নভাবে হুমকী-দমকী দিয়ে আসছিল আসামীসহ তার স্বজনরা। একটি মহল হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ারও পায়তারা করেছিল জানায় তারা মিয়ার পরিবার। এই হত্যা মামলাটি পুলিশ চার্জসীট দেয়ার ১২ দিনের মাথায় অর্থাৎ গত ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে হত্যা মামলার তারা মিয়ার ওডর হামলা করে আসামী পক্ষরা। এসময় হামলাকারীরা এলোপাতারি কুপিয়ে শরীরিরের বিভিন্ন অংশে হারকাটা জখম করে।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত তারা মিয়া প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেফার্ড করেন ঢাকা জাতীয় পুঙ্গ হাসপাতালে। বর্তমানে তারা মিয়া ঢাকা জাতীয় পুঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার পরিবারের লোকজন চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় হামলাকারী কুট কৌশলের আশ্রয় নিয়ে গত ৩/৪ দিন আগে হত্যা মামলার প্রধান আসামীর রান্না পুড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ে পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন আহত তারা মিয়া চাচা ফজলুল হক।

এলাকাবাসী জানায় আসামী পক্ষরা দাঙ্গাবাজ হওয়ায় নিরীহ তারা মিয়া ও তার পরিবারের ওপর একাদিক বার হামলা করছে। এলাকার কিছু লোকও দাঙ্গাবাজদের পক্ষ নেয় যেকারনে তারা সাহস পায়। কেন্দুয়া থানা ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন,কাউকে অযথা হয়রানি করার জন্য কেন্দুয়া থানায় আমি থাকতে কোন মিথ্যা মামলা হবে। তারা মিয়া ওপর হামলা হওয়ার পরপরই মামলা নিয়েছি। আসামীদের ধরতে প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 কেন্দুয়া