banglanewspaper

লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছে না। সূচিতে নেই। তাই খেলছে না। শেষ ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ গেল বছরের জুলাইয়ে। প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা।

তারপর পেছনের ছয়মাস জুড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোন ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি। কিন্তু সেই তখন থেকে আজ এই এখন পর্যন্ত এবং সামনের আরো কিছুদিন অন্য এক ইনিংস চলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে-যার নাম; ‘মাশরাফির অবসর তত্ত্ব’।

যখনই মিডিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মাশরাফি প্রতিবার এই ‘অবসর তত্ত্ব’ নতুন তথ্য নিয়ে হাজির হচ্ছে! সেই তথ্য কখনো মাইক বাজিয়ে শোনাচ্ছেন বিসিবির বড় কর্তা আবার কখনো মাইক্রোফোনের সামনে আসছেন মাশরাফি।

ক্রিকেট থেকে নিজের সম্ভাব্য অবসর নিয়ে মাশরাফি করছেন মন্তব্য। আর সেই রেশ না কাটতেই বিসিবি পরক্ষণেই দিচ্ছে বক্তব্য!

আশঙ্কা জাগছে মন্তব্য ও বক্তব্যের এই রেসে নম্রতার সুর যেন আবার হারিয়ে না যায়!

একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে মাশরাফি বিন মর্তুজার আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট থেকে সম্ভাব্য বিদায় নেয়ার বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিষ্ময়! বিসিবি’র বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে তারা মাশরাফির জন্য বিদায়ের মঞ্চ তৈরির অর্ডারও দিয়ে ফেলেছিল। বিসিবি সভাপতি নিজেই বলছেন-‘ওকে আমরা একবার অফার (অবসর নেয়ার বিষয়ে) করেছিলাম। আর এই বিষয়ে বিশ্বকাপের সময়েই লন্ডনে মাশরাফির সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে একটি ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন করে বিসিবি মাশরাফির হাতে বিদায় মানপত্র ও ফুলের মালা পরাতে চেয়েছিল।

-কিন্তু কেন সেই বিদায়ী মঞ্চ আর শেষপর্যন্ত সাজানো হলো না?

বিসিবি সভাপতির পরিষ্কার উত্তর-‘যাই হোক পরে ও (মাশরাফি) আর রাজি হলো না। আমাকে বলল, এই বিপিএল পর্যন্ত দেখতে চায়। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। আর এখন আমি মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি সে বলছে-তার নাকি ঘটা করে বিদায় নেয়ার ইচ্ছেই নেই!’

এবার শুনি মাশরাফি তার সম্ভাব্য অবসর প্রসঙ্গে কি বলছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ওয়ানডে অধিনায়ক অবশ্য তার অবসর নেয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তই নেননি। আর আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট থেকে তার সম্ভাব্য জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে তার শেষ কথাটা এমন- সবাই তো আর মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক তারকা ক্রিকেটারই মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেননি। আমিও একটা সময় ভাবতাম মাঠ থেকে নেবো কি নেবো না। দেখা যাক। তবে এখন মনে হচ্ছে প্রয়োজন নেই!

প্রয়োজন নেই-মাশরাফির মন্তব্যের বটমলাইন আপাতত এটাই।

আর বিসিবি বিরক্ত মাশরাফির এমন ইউটার্ন দেখে। ছ’মাস আগে তাহলে কেন আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলতে সম্মত হয়েছিলেন মাশরাফি? নিজেকে আকস্মিকভাবে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। নেহাতই বিসিবি’র আর্থিক সাশ্রয়ের জন্যই মাশরাফি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন-ব্যাপারটা এত সরলীকরণ করার উপায় নেই। মিডিয়ার সামনে বলছেন-‘বিসিবি চাইলে ওয়ানডে অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেবো।’

সমস্যা হলো কি রাখবো, কি ছাড়বো আর কি করতে চাই-নিজ ক্রিকেট ক্যারিয়ার সম্পর্কে আগামীদিনের এমনসব সিদ্ধান্তগুলো মাশরাফি সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি কখনো ক্রিকেট বোর্ডকে বলেননি। নিজের ইচ্ছের কথা তিনি জানিয়েছেন শুধু মিডিয়াকে। বিসিবিও জানছে সেখান থেকেই।

তথ্য জানার এই মাধ্যমটা বিসিবির পছন্দ হয়নি। আর সেই সঙ্গে এটা নিশ্চিত যে মাশরাফিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিসিবি সামনে পথচলার পরিকল্পনাও স্থির করে ফেলেছে। তাকে ঘিরে বিসিবির সেই ভাষা, শব্দচয়ন, বাক্যবাণ কি পড়তে পারছেন না মাশরাফি?

বিসিবির এক পরিচালক এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন এভাবে-‘হয়তো পারছে, কিন্তু পদবীর আগে ‘সাবেক’ শব্দটা সবাই খুব সহজেই ‘‘উপভোগ’’ করতে পারে না যে!’

 যে মাশরাফি সামান্য অবহেলায় এক রাতের সিদ্ধান্তে আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছিলেন, সেই তিনি কেন এখন বিসিবির চৌকাঠে অপেক্ষার ক্ষণ গুনবেন।

কিছু অপেক্ষা কিন্তু অপমানও বটে!

যাপিত জীবনে বারবার ইনজুরিকে হারিয়ে মাঠে ফেরার অনন্য উদাহরণ আছে যার। সেই তিনি কেন হারবেন আর বারবার অপমানিত হবেন ক্যারিয়ার শেষের লড়াইয়ে?

টসের কয়েন উপরে ছুঁড়ে দেয়ার পরপরই হেড না টেল-সিদ্ধান্তটা দিতে হয় দু’দলের এক অধিনায়ককে। আর অন্য অধিনায়ক তখন শুধু ভাগ্যের অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকেন আকাশের দিকে।

মাশরাফি এখন সেই অন্য অধিনায়ক!

ট্যাগ: bdnewshour24 মাশরাফি