banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ,  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে নদী থেকে পাওয়া একটি গাঙ্গেয় ডলফিনকে ওষুধ বানানের কথা বলে জনৈক কবিরাজ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় উপজেলার সীমান্তবর্তী নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের সুতিয়া নদী থেকে ধরা পড়েছিল ওই ডলফিনটি।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, এক জেলে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় আকস্মিকভাবে এ গাঙ্গেয় ডলফিনটি ধরা পড়ে। পরে সেটিকে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন ওই জেলে়। ডলফিনটি জীবিত থাকা অবস্থায় উৎসুক জনতা এটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও় খবর পেয়ে নদীর অপর পাশে ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী গ্রামের মোবারক হোসেন নামের এক কবিরাজ ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জেলের কাছ থেকে ডলফিনটিকে জীবিত অবস্থায় ওষুধ বানানোর কথা বলে তার বাড়িতে নিয়ে যান। 

প্রত্যক্ষদর্শী এক জেলে জানান, জালে আটকা পড়া ডলফিনটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সোয়া তিন ফুটের বেশি হবে। এর গায়ের রং লালচে-ধূসর। মুখের আকৃতি লম্বাটে। এগুলো বর্ষার সময় মাঝে মাঝে সুতিয়া নদীতে লাফাতে দেখা যায়। এক সময় এই নদীতে অনেক গাঙ্গেয় ডলফিনের লাফানোর দৃশ্য চোখে পড়তো।  কিন্তু বর্তমানে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলেও জানান এ জেলে।

এ প্রাণীটি সম্পর্কে তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা জানিয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রুকুনুজ্জামান পলাশ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা মৎস সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করুন।

তবে, প্রথমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের দায়ভারের কথা বললেও পরে উপজেলা মৎস সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশরাফুল্লাহ জানান, ডলফিন মূলত শোষক শ্রেণির প্রানী। এগুলোর গোশত বাংলাদেশের মানুষ খায়না। ডলফিন থেকে তৈরিকৃত তৈল বিভিন্ন ওষুধের কাজে লাগে বলে শোনা যায়। নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ায় এ প্রাণীগুলো বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জন্ম দিয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর