banglanewspaper

বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাউস হরিণ নামের বন্যপ্রাণী। এ প্রাণীটি হরিণ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট। ৩২ থেকে ৩৪ বছর আগেও এ হরিণ বাংলাদেশে দেখা যেত।

কয়েক দিন আগে এ হরিণ ভিয়েতনামের বনে দেখতে পাওয়া গেছে। ফিরে পাওয়া ভিয়েতনামে মাউস হরিণ বাংলাদেশেও একসময় ছিল। এ প্রাণী বাংলাদেশে ছাগুলে লাফা,  শোস বা শোশা নামে পরিচিত  ছিল। এর ইংরেজি নাম মাউস ডিয়ার।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ক্ষুরযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী মাউস ডিয়ার আকারে প্রায় বুনো খরগোশের মতো। অনেকে বলেন, দেখতে অনেকটা হরিণের মতো। এ প্রাণীর দৈর্ঘ্য ৫৭ সেন্টিমিটার। লেজের দৈর্ঘ্য ২.৫  সেন্টিমিটার। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোসার ওজন প্রায় ৭ পাউন্ড। এদের আছে নানা প্রজাতি। এরা নিশাচর প্রাণী। রাতের বেলা খাবার সন্ধান বা ঘোরাফেরা করে। দিনের বেলা আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

তাই সহজে মানুষের চোখে পড়ে না। এরা উদ্ভিদভোজী তবে কেউ কেউ পোকা-মাকড়, মাছ-কাঁকড়াও খায়। একসময় বাংলাদেশেও মাউস হরিণ বা শোসা ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বর্তমানে ভারতে দেখা  মেলে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ৩৪ বছর আগে বাংলাদেশে এর দেখা মিললেও বিলুপ্ত ঘোষণার প্রায় ৩০ বছর পর সম্প্রতি এদের দেখা মিলেছে ভিয়েতনামে। ভিয়েতনামে এই প্রাণীর নাম সিলভার-ব্যাকড  চেভ্রটেইন অথবা মাউস ডিয়ার। ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিমের বনে সাম্প্রতিক এ প্রাণী ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়ে। শোস নিয়ে কথা বলেছেন, সুন্দরবনের আদি প্রত্নতত্ত্ব ও বন্যপ্রাণী গবেষক ওয়াইল্ড টিমের কর্মী ইসমে আজম। তিনি ইতোমধ্যে সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিলুপ্ত প্রাণীর জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন।

পাশাপাশি নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাউস ডিয়ার রংপুর অঞ্চলে ১৯৮৫ সালে দেখা গিয়েছিল। রংপুর অঞ্চলে এ প্রাণীকে শোস বা শোশা বলা হতো। দেখতে খরগোশের আকারের মতো তবে পায়ে ছাগলের মতো ক্ষুর আছে।

এ ছাড়াও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলেও এক সময় উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।  বাংলাদেশের প্রাণী গবেষকরা বলছেন, ভিয়েতনাম থেকে এদের শাবক এনে বংশ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

ট্যাগ: bdnewshour24 Mouse Deer