banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ তৃনমুল স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে নির্মানের পর শিল্পায়নের প্রসার ও শহরায়নের ফলশ্রুতিতে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

ভবন ও কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার কথা সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর সেবার মান ভোগ করতে পারছেনা রোগীরা। ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার পদ সৃজন না করা, ৩১শয্যার পদ দিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম চালানো,প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বা জনবল সংকট, কতিপয় কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিয়মের কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, ৫০শয্যা হিসাবে দীর্ঘদিন হাসপাতালটি চলমান থাকলেও অদ্যবধি কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন -এই ৫টি কনসালট্যান্ট পদ সৃজন করা হয়নি।

৫০ শয্যার মোট কনসালট্যান্ট ১০টি পদ যা-

এ্যানেসথেসিয়া-১, মেডিসিন ১, সার্জারী-১,গাইনী-১, শিশু-১, কার্ডিওলজি-১, অর্থোপেডিক্স-১, চক্ষু-১, নাক-কান-গলা-১, চর্ম ও যৌন-১ থাকলেও রয়েছে ৫টি পদ। এখনও হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদ ২টি যার ২টিই শূন্য। ৯টি সাবসেন্টারের ৯জন মেডিকেল অফিসারের ৩জন ঢাকায় ডেপুটেশনে, ৪জন হাসপাতালে কর্মরত। বর্তমানে হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদ ২টি থাকলেও সে দুটিও শূন্য রয়েছে।

১০টি কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে অদ্যবধি ৫টি (কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন) কনসালট্যান্ট পদ সৃজন করা হয়নি। বর্তমানে সার্জারী, মেডিসিন, এনেস্থিসিয়া কনসালট্যান্ট পদগুলোও শূন্য। শুধুমাত্র ১জন গাইনী ও শিশু কনসালট্যান্ট দিয়ে আউটডোর চালানো হচ্ছে। 

এদিকে, বহির্বিভাগে টিকিট ক্লার্ক পদটি এখনো সৃজন করা হয়নি। অফিস সহায়ক দিয়ে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম। এছাড়াও স্টোরকিপার ১টি পদ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ২টি ফার্মাসিস্ট পদ থাকলেও দুটিই রয়েছে শূন্য। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ফার্মাসিস্ট এনে চালানো হচ্ছে সেখানের কার্যক্রম। ওয়ার্ড বয়ের ৩টি পদ থাকলেও ২টিই শূন্য ও কর্মরত রয়েছেন ১জন।

পরিচ্ছন্নকর্মীর পদ ৫টি থাকলেও ৩টিই শূন্য রয়েছে। আর কর্মরত আছেন ২জন। তারমধ্যে আবার একজন অসুস্থ।  কুক মশালচি  ২পদ থাকলেও শূন্য ১টি ও কর্মরত আছে ১জন। আয়া ২টি পদ থাকলেও শূন্য ১টি। কর্মরত রয়েছেন ১জন। নাইটগার্ড ২পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১জন।

গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গ্রাম থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ রমজান আলী জানান, কয়েকদিনের শীতে প্রচন্ড ঠান্ডা ও জ্বরে ভুগছি। হাসপাতালে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখানোর জন্য ৩০মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েকজন বললো ১৩২ ডাক্তার ১জন। লাইনে এখনো রোগী আছে ৭০ জন।

রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী গ্রামের আতাব উদ্দিন জানান, আমরা গরীব মানুষ। প্রাইভেট ক্লিনিকে ৫০০/১০০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তার দেখানোর সক্ষমতা নাই। যে কোন অসুখ হলে সরকারি হাসপাতালে আসি। সেখানে ডাক্তার না পাইলে আমরা কই যামু।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফতেহ আকরাম জানান, বর্তমানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০-৭০০ রোগী সেবা নিতে আসে। সে চাহিদা অনুযায়ী ৫০শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার পদ এখনো সৃজন করা হয়নি।

বর্তমানে ৩১শয্যার পদ দিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। ডাক্তারের সংকট থাকায় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চালানো হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ১জন গাইনী ও ১জন শিশু কনসালট্যান্ট দিয়ে আউটডোর চালাতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ জানান তিনি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মইনুল হক খান জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়ে ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক( স্বাস্থ্য) ডাঃ শেখ মুহাম্মদ হাসান ইমাম মুঠোফোনে  জানান, কাঠামোগত দিক থেকে উক্ত হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল নিয়োগ বিষয়য়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি।

সবশেষ বিসিএস ক্যাডারের পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। পরবর্তী নিয়োগের মাধ্যমে সারাদেশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দেয়া হবে।

তবে, তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগে আদালতে রিট সংক্রান্ত জটিলতায় তা আপাতত বন্ধ রয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত  বিষয় গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর