banglanewspaper

আঠারশো সালে সেফটি ব্রেক উদ্ভাবনের পর থেকে লিফটের উন্নয়নের কাজকে তরান্বিত করে এবং আজকের উন্নত ধরনের লিফটকে আমরা দেখছি। এগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতিটি লিফট কক্ষের ভেতর আলাদা স্টিলের কেবল থাকে যেটি ভেতরে সতর্কতামূলক বানীতে যে পরিমাণ ওজনের কথা বলা আছে তার চেয়ে অনেক বেশি ভার বহনে সাহায্য করে। এর ফলে তারের ওপর চাপ কম পড়ে। এগুলো আধুনিক যুগের লিফটের কিছু সাধারণ নিরাপত্তা মূলক বৈশিষ্ট্য।

বর্তমান সময় লিফট যেনো আমাদের জীবন-যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বাসা-বাড়ি হতে শুরু করে অফিস-আদালত এমনকি মার্কেটে গেলেও আমাদের উঠতে হয় লিফটে। লিফট যেমন আমাদের সময় বাঁচায় তেমনি আরামে গন্তব্যে পৌঁছায় দিয়ে থাকে। তবে দুর্ভাগ্যবশত এই পৃথিবীতে কেওই দুর্ঘটনার হাত হতে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ নয়। সব সময় এমনটি ঘটে না। অর্থাৎ লিফট ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা সব সময় না ঘটলেও কখনও ঘটবে না এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। তাই আমাদের নিজেদেরই আগে খুঁজে বের করতে হবে, হঠাৎ লিফট দুর্ঘটনায় পতিত হলে প্রাণে বাঁচতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে জীবন বেঁচেও যেতে পারে বা কম আহত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

লিফট ছিঁড়ে যাবে এমন নয়। তবে কখনও যদি ছিঁড়ে যায় তাহলে কি করতে হবে সে বিষয়টি জানা থাকা দরকার। আজ জেনে নিন কখনও লিফট ছিঁড়ে গেলে আপনার করণীয় কি হতে পারে।

সোজা হয়ে দাঁড়াবেন নাঃ

লিফট ছিঁড়ে পড়তে লাগলো, ধরে নেয়া যাক কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকলো। এক্ষেত্রে যখন লিফটটি তাকে নিয়ে নিচে পড়বে ঠিক তখন তার ওজন তার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যাবে। কীভাবে সেটা? মনে করা যাক, তার ওজন ৪০ কেজি আর লিফটটি তাকে নিয়ে নিচে পড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৪০ মিটার গতিতে। তাহলে তার ভরবেগ দাঁড়ালো ৪০x৪০=১৬০০ কেজি/মিটার প্রতি সেকেন্ডে। আর যেহেতু তার ও লিফটের উপর অভিকর্ষজ ত্বরণও কাজ করছে সেহেতু প্রতি সেকেন্ডে তার ভরবেগ বাড়তে থাকবে। আর ঠিক এই ভরবেগ নিয়ে যখন সে নিচে পড়বে, দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তখন তার শরীরের কয়েক গুণ বাড়তি ভার লম্বালম্বিভাবে অল্প কয়েকটা বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হবে। তখন তার মনে হবে তার ওজনের অনেক গুন বেশি ওজনের কিছু দিয়ে অনেক গতিতে কেউ তার মাথায় আঘাত করছে। ফলে মাথার ভারে আগে ভাঙবে ঘাড় এরপর ধীরে ধীরে সব ধুমড়ে মুচড়ে যাবে। মারা যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

তাই পাঠক আমরা বুঝতে পারলাম কখনও লিফট ছিঁড়ে গেলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটাও খুব ভালো ধারণা নয়। কারণ হলো পতনের সময় শরীরের ওজনের কয়েক গুণ ওজন এসে ভর করে আপনার পায়ে। যা খুবই গুরুতর জখম হওয়ার কারণও হতে পারে।

লিফটের মধ্যে লাফালাফি করবেন নাঃ

আপনি যখন লিফট ছিঁড়ে ফ্রি স্টাইলে নিচে পড়ে যেতে থাকবেন, তখন লাফ দেওয়ার চেষ্টা করাটা বোকামি হবে। দ্বিতীয়ত লাফালাফি করলে লিফট আরও বেশি গতিতে আছড়ে পড়তে পারে। তৃতীয়ত আপনার শরীরের কোনো অংশ পতিত হবে তা এর মাধ্যমে আগেভাগেই নির্ধারণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বরং লাফের কারণে আপনি মাথায়ও আঘাত পেতে পারেন ও খুব খারাপভাবে আপনার শরীর নীচে আছড়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী নিরাপদ কিছু কৌশলঃ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ লিফট যখন পড়ে যেতে থাকবে তখন যতো দ্রুত সম্ভব চিৎ হয়ে দুই হাত ও পা ছড়িয়ে লিফটের মেঝেতে শুয়ে পড়া একমাত্র এবং প্রধান নিরাপদ কৌশল।

তাতে করে আপনার শরীরের অন্য অংশগুলোতে শক্তি আরও ছড়িয়ে পড়বে। যে কারণে শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে অন্য কোনো অংশের তুলনায় খুব বেশি ওজন বিরাজ করবে না। নিচে পড়ার আঘাত শরীরের সব অংশে সমানভাবে লাগবে বলে ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশে কম আঘাত পেতে পারেন। তবে সত্যিকার অর্থে এটা বাঁচার একটা চেষ্টা মাত্র, আপনার জখম তো হতেই পারে, তবে গুরুতর জখম হতে রক্ষা পাওয়ার সেরা একটা চেষ্টা হচ্ছে এই কৌশলটি অবলম্বন করা।

লিফটে বেশি মানুষ থাকলে কী করবেনঃ

হঠাৎ লিফট ছিঁড়ে গেলে লিফটে যদি বেশি সংখ্যক মানুষ থাকে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো যেটা করতে পারেন তা হচ্ছে, লিফটের মেঝেতে সকলেই বসে পড়া। আপনি দাঁড়িয়ে থাকলে অস্থিতে যে পরিমাণ চাপ পড়তো তার তুলনায় অস্থিতে কম চাপ পড়বে এই পজিশনে গেলে। যদি বসে পড়ার মতো জায়গা না থাকে, সেক্ষেত্রে অন্তত চেষ্টা করুন হাঁটু বাঁকা করে রাখার জন্য, এটিও পায়ের বল কমাতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। সর্বশেষ বিষয়টি হলো হঠাৎ যদি লিফট ছিঁড়ে পড়তে দেখেন উপরোক্ত বিষয়গুলোর সঙ্গে মহান সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করুন। তিনিই আপনাকে রক্ষা করবেন। কারণ তাঁর ক্ষমতা অসীম।

ট্যাগ: bdnewshour24 লিফট