banglanewspaper

স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কোতোয়ালী থানার তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র (জেসি) মণ্ডল, সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি কারাগারে আছেন। অপর আসামি ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভা শুরুর আগে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক আদালত ভবনের দিকে আসার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে ২৪ জন মারা যান। এঘটনায় গুরুতর আহত হন শতাধিক। অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেন। গুলিবর্ষণের সময় মানববেষ্টনী তৈরি করে শেখ হাসিনাকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার শুধু গুলি চালিয়েই থামেনি নিহতদের কারও মরদেহ পরিবারকে নিতে দেয়নি; সবাইকে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

সেদিন নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন কুমার বিশ্বাস, স্বপন চৌধুরী, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, শাহাদাত, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া ও মো. কাসেম।

এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি সচল হয়। দুই দফা তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

অবশেষে চলতি বছরের ১৪ জাুনয়ারি বিশ্বব্যাপী কঠোর সমালোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রবিবার (১৯ জানুয়ারি)  আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পরেরদিন (আজ) রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ড