banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: "নামে নামে জমে টানে"- এ কালের বচন যেন বাস্তবিক রূপ নিয়েছে এক চা দোকানীর জীবনে। নামের মিল ও পুলিশের একঘেয়েমীর ভুলে জেলে গেলেন  নিরপরাধ এক চা দোকানী।  লাইসেন্সবিহীন করাতকলে গজারি গাছ চেন্নাই করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শ্রীপুর সদর বিট অফিসার সহিদুর রহমান কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের বেগুন বাড়ি এলাকার নুর মােহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরােয়ানা জারি হলে সেই পরােয়ানা শ্রীপুর থানায় পৌঁছলে মামলার মূল আসামি করাতকল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে না ধরে নিরপরাধ চা বিক্রেতা রফিকুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকার  কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের মসজিদ মােড় থেকে তাকে আটক করা হয় বলে ২০ জানুয়ারি সোমবার জানায় তার পরিবার।

মূল আসামী কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের (বেগুন বাড়ি) এলাকার নুর মােহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলাম। জন্ম ১৬ জানুয়ারি ১৯৮০। তার মায়ের নাম রহিমা খাতুন। তার ভোটার নং-১৬১১।

গ্রেফতার হওয়া কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের মসজিদ মোড় এলাকার নুর মােহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলাম। জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৭৭। তার মায়ের নাম জামিনা খাতুন। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়় বার বার পুলিশকে বিষয়টি বলার পরও তারা কর্ণপাত করেনি। রফিকও এ সময় কান্নাকাটি করে বলছিলেন, তার বিরুদ্ধে কোনাে মামলা নেই। 

গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, গত শুক্রবার বিকেলে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (মসজিদ মােড়) এলাকার নিজের চায়ের দোকান থেকে একাধিক মানুষের সামনে আটক করা হয় রফিকুল ইসলামকে। পরে জানতে পারি  বন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির নামের সঙ্গে তার নামের মিল থাকায় তাকে ধরা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ থানায় যোগাযোগ করা হলেও গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ। শুধুমাত্র আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় আজ ৫ দিন ধরে জেল খাটছেন নিরপরাধ রফিকুল ইসলাম। পুলিশের ভুলের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি জেল খাটার বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান তিনি। 

মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলাম বলেন, করাতকলের ব্যবসা করার সময় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল । তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। 

মামলার মূল আসামি করাতকল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে না ধরে চা দোকানী রফিকুলকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে একাধিক বার শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলেননি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, বন বিভাগ কর্তৃক এ মামলাটি আদালতে দায়ের করা । এখানে নাম, পিতার নামসহ ঠিকানা একই। মামলায় তো আর মায়ের নাম দেয়া নেই।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর