banglanewspaper

মিরপুরের দারুসসালামে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটি বিএনপির কারসাজি কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নবনির্বাচিত পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাজার এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাবিথ অভিযোগ করেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নেতৃত্বে এ হামলা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বিষয়টি আমি আপনার কাছেই জানলাম। কারণ আমি এতক্ষণ একনেক মিটিংয়ে ছিলাম। বিষয়টা পুরোপুরিভাবে না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি নির্বাচনের পরিবেশকে ঘোলাটে করার জন্য একটি পক্ষ সক্রিয়। এটি সে পক্ষেরই কারসাজি কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিএনপির প্রথম থেকে প্রচেষ্টা হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সুতরাং নানা ধরনের ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া সেটি তার অংশ কিনা এটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। তবে সেটি বিএনপির পক্ষে, আমাদের বিপক্ষে।’

উদাহরণ টেনে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে মন্ত্রীরা প্রটোকল বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আর সংসদ সদস্যরা তো পারেনই। সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার যুক্তরাজ্যেও (মন্ত্রীরা) এটি পারেন। অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও এটি পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে আমরা পারছি না। এটি বিএনপিকে সুবিধাজনক অবস্থা করে দিয়েছে। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটা তাদের পক্ষে চলে গেছে।’

চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ, সেদিন অনেক মরদেহ গুম করে ফেলা হয়েছিল।’

৩২ বছর পর এ হত্যা মামলার রায় শেষ হওয়ায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সরকারের এ মন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এই গণহত্যা চালানোর জন্য ঢাকা থেকে যারা নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

সিপিবির সমাবেশে হামলা মামলার রায়েও সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যই হামলাগুলো পরিচালিত হয়েছিল। যারাই হামলাগুলো পরিচালিত করেছিল তাদের উত্তরসূরিরা কিন্তু এখনো সক্রিয়। এজন্য আমাদেরকে এখনো সতর্ক থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম আলোর সম্পাদকসহ কয়েকজনের হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়, দেশের আইন এবং আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 তথ্যমন্ত্রী