banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বামীর ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক স্ত্রী কুদ্দুসুন আক্তার লিমা (২৫) বাবার ভাড়া বাসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। টাকার অভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না রিকশা চালক বাবা। এরই মধ্যে বাবার সামান্য ভিটে বাড়িও বিক্রি করে দিয়েছেন চিকিৎসার ব্যায় মিটাতে।

এদিকে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করা ঘাতক জাহিদ হাসান (২৯) কে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। 

ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৩ জানুয়ারি ২০২০ ইং সকালে গাজীপুর মহানগরীর জিরানী বাজার এলাকার মাছিহাতা গার্মেন্টস এর সামনে।

আহত লিমা বগুড়ার নন্দিগ্রাম আগাইপুর গ্রামের ফেরদৌস পরামানিকের মেয়ে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ পানিশাইল সোনালী পল্লীর  স্বপন এর ভাড়া বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে থেকে স্থানীয় মাছিহাতা গার্মেন্টসের লিংকিং অপারেটর হিসেবে কাজ করত।

আটক জাহিদ বগুড়ার কাহালু উপজেলার জামগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার বাদশা আকনের ছেলে। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বিগত ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জাহিদ ও কুদ্দুসুন আক্তার লিমার। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অযুহাতে লিমাকে তার স্বামী নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত দুই মাস আগে গাজীপুরে বাবার কাছে চলে আসে এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী নেন।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কারখানায় যাওয়ার জন্য বের হয় লিমা। কারখানার সামনে আসামাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহিদ তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি লিমার পেটে ঢুকিয়ে দেয়। 

এদিকে, ছুরি মেরে পালানোর সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেয় এবং লিমাকে উদ্ধার করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক জাহিদকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। ঘটনায় লিমার বাবা বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় একটি মামলা (নং ০৭) দায়ের করেন।

লিমার বাবা ফেরদৌস পরামানিক জানান, ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবেই বিয়ে দেন লিমার। কিন্তু বিয়ের পর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানাভাবে নির্যাতন করত। সাংসারিক জীবনে তাদের ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে দুই মাস আগে আমার কাছে চলে আসে লিমা। এরপর থেকে জাহিদ মোবাইল ফোনে লিমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এছাড়া কয়েকবার চেষ্টা করেও নাকি ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন আগেও মোবাইল ফোনে লিমাকে চাকু মেরে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় জাহিদ। আর তাই করল।

তিনি অভিযোগ করেন, লিমাকে নির্যাতনের সাথে শ্বশুর বাদশা আকন, শ্বাশুড়ি রওশনা আক্তার জেবা,  শান্তনা, রহিম, রেহেনা, খালেদা, খালেক ও আশিফ জরিত রয়েছে। এরা সকলে মিলে লিমাকে মারধর করত।

এদিকে, ঘটনার পর লিমার চিকিৎসা করাতে গিয়ে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম রিকশা বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রি করে দিয়েছেন মাথা গুজার ঠাঁইটুকুও। এরপরও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে সুদে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে সাহায্য তোলে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন লিমার বাবা ফেরদৌস।         

কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ মফিজুর রহমান জানান, ঘটনায় ঘাতক স্বামী আটক রয়েছে এবং সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ এছাড়া মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 স্বামী