banglanewspaper

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: পরশ আহমেদ সাজু। কান্দিউড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক তুখোড় ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। তার বাবা আব্দুল কাদির তালুকদার ছিলেন ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। বড় ভাই মাহাবুবুর রহমান ঝান্টু বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

গত ২০১৬ সালে ৩১ জুলাই কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহম্মেদ খোকন ও তার লোকজনের অর্তকিত হামলায় ছাত্রলীগ নেতা পরশ আহমেদ সাজুসহ কয়েকজন আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসায় অন্যরা ভাল হলেও সাজু’র অবস্থা ছিল খুবই শুরুতর। আজও সাজু সুস্থ্য হতে পারেনি। কয়দিন আগেও তার একটি আঘাতের অপারেশন হয়েছে। ডান হাতটি প্রায় পুঙ্গু হয়ে গেছে। মিছিলের সময় সাজু’র খুব কদর থাকলেও সাজু’র এই দুরদিনে কেউ খোঁজ নেন না বলে কান্নাজরিত কন্ঠে এ প্রতিবেদকে জানায় সে।

বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে ৩১ জুলাই রোববার কেন্দুয়া পৌর শহরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে পৌর শহরে একটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরই জের ধরে রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের সাউদপাড়া মোড় দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা পরশ আহমেদ সাজু ও আবির আহম্মেদ খান রুজেলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পথে জসিম উদ্দিন খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পৌঁছলে জসিম উদ্দিন খোকন ও তার লোকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর অর্তকিত হামলা করে। এ সময় তারা ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে ছাত্রলীগ নেতা পরশ আহমেদ সাজু ও আবির আহম্মেদ খান রুজেলসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করে।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে গেলে সাজুর অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে পরদিন সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন সাজু। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলে জানান সাজু। এঘটনায় সাজু’র ফুফাত ভাই আব্দুল লতিব বাদী হয়ে ১৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

সাজু আরো বলেন, আহত হওয়ার কিছুদিন আমার সহকর্মীরা খোঁজ-খবর নিলেও এখন আর কেউ আমার খবর নেয় না। আমার ওপর হামলার ঘটনা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নেয়নি তৎকালীন থানার পুলিশ। তৎকালীন সংসদ সদস্য ইফতিকার উদ্দিন তালুকদারের কোনরকম সহযোগিতা পাওয়া তো দূরের কথা মামলা ক্ষেত্রেও চরম অসহযোগীতা করেছেন। গত কয়েকদিন আগেও কোমরের নিচে আরো একটি অপারেশন করে একটি কাঠের টুকরা বের করা হয়েছে। কয়েকটি আঘাতের কারণে আমার ডান হাতটি দিন দিন শুকিয়ে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। আমি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে অনার্সে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এই অকেজো হাত দিয়েই লেখা হয়।

তিনি বলেন, জানিনা আমার ভবিষ্যৎ কি হবে? আমার বাবা সারাজীবন দলের জন্য কাজ করে গেছেন আমরাও করি। দলের জন্য আজ আমি পুঙ্গু হয়েছি। যেভাবে আমার শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিচ্ছে, মন বলছে আমার আর মিছিলে যাওয়া হবে না। তাই আমার শেষ ইচ্ছা দলের সভানেত্রী মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।

ট্যাগ: bdnewshour24 কেন্দুয়া নেত্রকোনা