banglanewspaper

৬৮ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক হরেকালা হাজাব্বা যিনি পেশায় কমলা বিক্রেতা।

হাজাব্বা কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালোর শহরে ঘুরে ঘুরে কমলা বিক্রি করেন। তবে এখন তিনি আর শুধুই একজন সাধারণ কমলা বিক্রেতা নন; এ বছর ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘পদ্মশ্রী’র জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।

হাজাব্বার পদ্মশ্রী পাওয়ার পেছনের গল্পটা ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ী। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্ণাটকের যে গ্রামে হাজাব্বার বসবাস, সেই নিউপাদাপু গ্রামে ২০ বছর আগেও ছিল না কোনো স্কুল। হাজাব্বাই সর্বপ্রথম গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। শুধু অনুভব করেই ক্ষান্ত থাকেননি, নিজের জমানো অর্থ দিয়ে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন একটি স্কুল। আস্তে আস্তে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, বড় হতে থাকে হাজাব্বার উদ্যোগও। নিজের জমানো অর্থে না কুলানোয় ধার নিয়ে স্কুলের জন্য একখণ্ড জমিও কিনে ফেলেন তিনি। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেই থেমে থাকেননি, বানিয়েছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও। অথচ হাজাব্বার দৈনিক গড় আয় মাত্র ১৫০ রুপি!

কখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পাওয়া হাজাব্বা জানিয়েছেন, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলার একটি ঘটনাই তাঁকে এই মহৎ কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ মিনিটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাজাব্বা বলেছেন, ‘বিদেশি এক দম্পতি আমার কাছে কমলার দাম জানতে চাইছিল। কিন্তু আমি ওদের কথা বুঝতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা করেও তুলু ও বিয়ারি ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আমি কথা বলতে পারছিলাম না। ওই দম্পতি তখন কমলা না কিনেই চলে গেল। পুরো ঘটনাটি আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল। তখনই আমি অনুভব করি, অন্তত আমার গ্রামের ছেলেমেয়েদের যেন আমার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননার জন্য মনোনীত হওয়ার পর হাজাব্বা এবার চান, সরকার যেন তাঁর গ্রামে একটি কলেজ করে দেয়।

হাজাব্বার পদ্মশ্রী জয়ের এই কাহিনি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। টুইটারে অনেকেই তাঁকে বাস্তব জীবনের নায়ক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

ট্যাগ: bdnewshour24 পদ্মশ্রী কমলা বিক্রেতা