banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর)প্র তিনিধিঃ বনের ভিতর শিশু শিক্ষার্থীদের অ,আ,ই শব্দের মুখরিত ধ্বনি বাজছিল। কৌতুহলে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে দু-পাশে গজারী বনের গহীন অরণ্য অন্যপাশে সরকারি আকাশমনি বাগান। আরেক পাশে ছোট ছোট ছাপড়া ঘরের সমন্বয়ে গঠিত সোহাদিয়া গ্রামের খাসপাড়া নামক এলাকা। দরিদ্র ও অসহায় গৃহহীন পরিবার গুলো বসবাসের জন্য সরকারি বনের পাশে থাকে বলেই এমন নামকরণ। আশপাশের প্রায় ৩ কিলোমিটারে নেই কোন বিদ্যালয়।

তাই, এ এলাকার প্রায় শতাধিক শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে। সেসব সুবিধা বঞ্চিত ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী হাবিবুন নেছা মিমি। অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ দানের মাধ্যমে গড়ে তুলেন " ক্ষুদে বর্ণমালা শিশু পাঠশালা"। 

কলেজ ছাত্রী হাবিবুন নেছা মিমি উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাচ্চু সরকারের মেয়ে । তিনি শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারী কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

২৯ জানুয়ারি বুধবার সকালে সরেজমিনে ওই ক্ষুদে বিদ্যালয়ের গিয়ে জ্ঞান দানের নানা বিষয় সম্পর্কে জানা যায়।

খোলা আকাশের নিচে পাটের বস্তা বিছিয়ে বর্তমানে ওই এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মোট ৪০ জন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বনের জমিতে শুরু করেছেন ক্ষুদে বর্ণমালা শিশু পাঠশালা"। এখানে শিশু শ্রেনী থেকে ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজনেরই নেই মাতাপিতা। 

পাঠশালায় আসা শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের মা রশিদা খাতুন জানান, দিন আনি দিন খাই। দূরের স্কুলে কেমনে পড়ামু। স্কুলে যাওয়ার আর কাপড়ের খরচ পামু কই। তাই এতোদিন স্কুলে দেই নাই। এখন যেহেতু বাড়ির পাশে স্কুল হইছে তাই এখানে পাঠাই। 

খাসপাড়া দক্ষিন এলাকা থেকে আসা সুমাইয়া ও সুরাইয়ার মা রওশন আরা জানান, আমার স্বামী মানুষের বাড়ি বাড়ি দিনমজুরের কাজ করে। আমরা নিজেরা পড়াশোনা করিনাই। তাই আমরা অন্ধকারে আছি। এখন তো শিক্ষা ছাড়া দাম নাই। কিন্তু এখান থেকে স্কুল তো অনেক দূরে। তাই বাড়ির পাশে এ স্কুলে তাদের ভর্তি করেছি।

পাঠশালাটির প্রতিষ্ঠাতা কলেজ পড়ুয়া মিমি সরকার জানান, আমার স্বপ্ন ছিল মানুষের জন্য এমন কিছু করে যাবো যেন মৃত্যর পরও সকলের মাঝে তা বিরাজমান থাকে। এমন চিন্তা থেকেই ওই এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষ গুলোর পাশে এসে দাঁড়াতে চেয়েছি। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় " সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য"- এমন শ্লোগানে মানবিক মূল্যবোধ বুকে নিয়েই আমার এ পথ চলা। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে হয়তো এ সুবিধা বঞ্চিত মানুষ গুলোর জন্য আমি কিছু করতে পারবো। 

মিমির এক সহযোগী স্থানীয় যুবক মোঃ আসাদ জানান, অসহায় শিশুদের জন্য মিমির এমন মহতী উদ্যোগে আমিও পাশে থাকতে চাই। তাই বিদ্যালয়টির খেয়াল সবসময়ই খোঁজ খবর নেই।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার জানান, ওই পাড়ার মানুষ গুলো দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। যেখানে শিক্ষার আলো কিছুটা কম। তাই সেখানকার সুবিধা বঞ্চিত শিশুর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর এমন উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। পরিষদের পক্ষ থেকে স্কুলটির জন্য সর্বাত্তক সহোযোগিতা করা হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন জানান, জ্ঞানের আলো সকলের মাঝে পৌঁছে দিতে ওই কলেজ ছাত্রীর এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। স্কুলটির খোঁজ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 সুবিধা বঞ্চিত শিশু জ্ঞানদীপ্ত কন্যা