banglanewspaper

আগামী বছরই উপমহাদেশের কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের শততম জন্মবার্ষিকী। মৃণাল সেন বা ঋত্বিক ঘটক শতবর্ষ না ছুঁলেও বাংলা ছবির দুনিয়ায় এই তিন নাম কালজয়ী। তাদের প্রতি তাই বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশে অবস্থিত আদি বাড়ি বা জন্মভিটা সংরক্ষণের পথে পা রাখতে চলেছে ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস অফ ইন্ডিয়া। 

সংস্থার পক্ষ থেকে এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, কালজয়ী ত্রয়ীর বাড়িগুলি পুনরুদ্ধারের জন্য খুব তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে সংস্থার সহ সভাপতি প্রেমেন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র যত্নের অভাবে জরাজীর্ণ তিন পরিচালকের জন্মভিটা। এগুলির যদি এখন থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাহলে তাদের ঋণ কিছুটা শোধ করা সম্ভব হবে। দুই দেশের আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের কথা, তাদের অবদানকে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর নজরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ বাংলাদেশ সরকার তিন পরিচালকের সম্পত্তি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এর আগে একাধিকবার জানিয়েছে ভারত সরকারকে।

সহ সভাপতির কথায়, ঢাকা থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে কিশোরগঞ্জে অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। বাড়িটির দেখভালের জন্য এর আগেই বাংলাদেশের সিনেপ্রেমীরা সরকারের কাছে একাধিক বার আবেদন করেছিলেন। 

একই অবস্থা রাজশাহীতে অবস্থিত ঋত্বিক ঘটকের বাড়িটিরও। ১৯৮৭-৮৮ সালে বাড়ির একটি বড় অংশ ভেঙে হোমিওপ্যাথি কলেজ তৈরির অনুমতি দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। 

ফরিদপুরে মৃণাল সেনের পৈতৃক বাড়ির মালিক যদিও সরকার নন। কোনও এক ব্যক্তির হাতে মালিকানা হস্তান্তরিত হওয়ার পর তিনি পুরানো কাঠামোটি ভেঙে দিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে ঋত্বিক ঘটকের বাড়িরকিছু অংশ সাইকেল স্ট্যান্ডের জন্য ভাঙা পড়ার পর প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীরা এবং তানভীর মোকাম্মেল ও নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এরপরেই বাংলাদেশের সিনে সম্প্রদায় একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করে, ঘটক, রায় এবং সেনের পৈতৃক বাড়িগুলি রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

ট্যাগ: bdnewshour24 মৃণাল